বৈষম্যের শিকার রিকন্ডিশন্ড মোটরযান খাত

নতুন আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। গতকাল শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় এ মানববন্ধনের আয়োজন করে সংগঠনটি। বারভিডার সভাপতি আবদুল হকের নেতৃত্বে সংগঠনটির অনেক সদস্য উপস্থিত ছিনে। এ সময় সরকারের কাছে বারভিডার ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, সরকারের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রিকন্ডিশন্ড মোটরযান খাতকে চরম বৈষম্যের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ গ্রাহকদের আধুনিক প্রযুক্তির মোটরযান ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়ে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব এবং নির্দিষ্ট বয়স ও কারিগরি সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী শর্তসাপেক্ষ রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ পুনর্বহাল করার দাবি জানান।

বৈশ্বিক উদাহরণ ও বাজার বাস্তবতা বিষয়ে বারভিডার পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্বের বহু দেশে ব্যবহৃত রিকন্ডিশন্ড ইভি নিয়মিত আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে। জাপান, গণচীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জার্মানি থেকে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের ইভি গাড়ির বৈশ্বিক সরবরাহ দিন দিন বাড়ছে। কড়া মান নিয়ন্ত্রণ ও শর্ত সাপেক্ষে যুক্তরাজ্য (সর্বোচ্চ ১০ বছর), কেনিয়া (৮ বছর), জর্জিয়া ও শ্রীলঙ্কা (৬ বছর) এবং সৌদি আরব (৫ বছর) বয়সী রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির অনুমতি দেয়। এমনকি আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডে কোনো বয়সসীমা ছাড়াই ইভি আমদানি করা যায়।

নেতারা বলেন, নতুন ইভি গাড়ির আকাশচুম্বী মূল্য দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের বাইরে। রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ দিলে তুলনামূলক কম দামে পেশাজীবী ও সাধারণ ক্রেতাদের কাছে পরিবেশবান্ধব গাড়ি পৌঁছানো সম্ভব। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হবে।

দাবি আদায়ে খাত সংশ্লিষ্টরা আন্দোলনে নামবে জানিয়ে বারভিডার সভাপতি আবদুল হক বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আমাদের যৌক্তিক দাবি ও আবেদন পৌঁছে দিয়েছি। আমরা আশা করি, গণতান্ত্রিক সরকার জনস্বার্থে ও দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এই নিষেধাজ্ঞা দ্রুত প্রত্যাহার করে নেবে। অন্যথায়, ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ রক্ষা এবং বৃহত্তর ক্রেতাগোষ্ঠীর স্বার্থে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হব।’

মানববন্ধনে বারভিডার সেক্রেটারি জেনারেল রিয়াজ রহমান, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আব্দুল মান্নান চৌধুরী খসরু, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মো. হাবিব উল্লাহ ডন, প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবর, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান এবং মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামসহ সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতারা, সাধারণ পরিষদের সদস্য এবং মোটরযান খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।