ভেরেভ না শেলটন

নিউ ইয়র্কের ফ্লাশিং মেডোয় রোমাঞ্চের চূড়ান্ত অধ্যায় লেখার অপেক্ষা শেষ পর্যায়ে। রবিবারের ইউএস ওপেন ফাইনালে স্টেডিয়ামের গ্যালারি আর টিভি স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা কোটি কোটি দর্শকের চোখ থাকবে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের দিকে। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ ২৩ বছরের পুরুষ একক গ্র্যান্ড সø্যাম শিরোপার খরা কি তবে এবার কাটতে চলেছে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতেই আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামের কর্দমাক্ত বা হার্ডকোর্টের লড়াইয়ে নামছেন জার্মানির অভিজ্ঞ আলেকজান্ডার ভেরেভ এবং স্বাগতিক দেশের তরুণ সেনসেশন বেন শেলটন।

সেমিফাইনালে স্বদেশি ও বন্ধু ফ্রান্সিস টিয়াফোকে ৪-৬, ৬-৩, ৬-৩, ৭-৫ সেটে হারিয়ে ফাইনালে নাম লিখিয়েছেন বেন শেলটন। প্রয়াত দাদিকে উৎসর্গ করা সেই জয়ের ম্যাচটিতে তার আক্রমণাত্মক টেনিসের পূর্ণ রূপ দেখা গেছে। বাঁ-হাতি এই মার্কিন তারকা একাই হাঁকিয়েছেন ২০টি এস। তবে শুধু গতি নয়, শেলটনের গেমের আসল রূপান্তর ঘটেছে তার রিটার্ন শটে। উইম্বলডনের প্রথম রাউন্ডে ছিটকে যাওয়ার পর দীর্ঘ ট্রেনিং সেশন আর গত মাসের সিনসিনাটি মাস্টার্স জয় তার আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী করেছে।

অন্যদিকে, ফাইনালে শেলটনের প্রতিপক্ষ আলেকজান্ডার ভেরেভ সেমিফাইনালে কারেন খাচানভকে সরাসরি সেটে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে পা রেখেছেন। চলতি গ্র্যান্ড সø্যাম মৌসুমে এটি তার ২৪তম জয় (২৬ ম্যাচের মধ্যে)। দারুণ ধারাবাহিক হলেও সমালোচকরা বলছেন, তার এই পথচলায় কিছুটা সৌভাগ্যের ছোঁয়াও রয়েছে। কারণ এই মৌসুমে তিনি শীর্ষ-১০ এর ভেতরে থাকা একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে কেবল টেলর ফ্রিটজকে হারিয়েছেন। আজকের ফাইনালে ভেরেভের সামনে সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হতে পারে ফ্লাশিং মেডোর গ্যালারিভর্তি সরব মার্কিন সমর্থকরা। এর পাশাপাশি তার সার্ভিস করার আগের অভ্যাস অর্থাৎ অতিরিক্ত সময় ধরে বল বাউন্স করার বিষয়টি নিয়েও টেনিস বিশ্বে বেশ আলোচনা রয়েছে। খাচানোভের মতো খেলোয়াড়রাও এই দীর্ঘসূত্রতাকে বিরক্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন, যা ফাইনালে বাড়তি উত্তাপ ছড়াতে পারে।

অভিজ্ঞতা বনাম তারুণ্যের এই লড়াইয়ে আজ (রবিবার) রাতে কার হাতে উঠবে ইউএস ওপেনের মুকুট, সেটাই এখন দেখার বিষয়। যদিও ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে ভেরেভ এগিয়ে আছেন শেলটনের বিপক্ষে। পাচ বারের মুখোমুখিতে সবকটিতেই জিতেছেন এই জার্মান।