হাসান-মিরাজে ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ বাড়ছে

প্রথমবার ক্যারিবিয়ান সুপার লিগ (সিপিএল) খেলতে নেমে দারুণ ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে নিজের প্রথম দুই ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়েছেন এ অলরাউন্ডার। বাংলাদেশের আরেক ক্রিকেটার হাসান মাহমুদ প্রথমবার কাউন্টি ক্রিকেটে নাম লিখিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। কেন্টের জার্সিতে ৪ ম্যাচে ২৬ উইকেট শিকার করেছেন এ ডানহাতি পেসার। হাসানের পথ ধরে একই দলে সুযোগ পান শরিফুল ইসলাম। তবে ওয়ার্কলোড বিবেচনায় এ বাঁহাতি পেসারকে ছাড়পত্র দেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তার পরিবর্তে খালেদ আহমেদকে নিয়েছে কেন্ট। বিদেশি লিগে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের চাহিদা বাড়ায় খুশি বিসিবি। জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্রিকেটারদের বাইরে খেলার সুযোগ দিতে চায় ক্রিকেট বোর্ডও।

বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস মনে করেন, বিশ্বের বিভিন্ন লিগে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ভালো পারফরম্যান্স শুধু তাদের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেই প্রভাব ফেলছে না, এর সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ব্র্যান্ড ভ্যালুও বাড়ছে। গতকাল মিরপুরে একটি সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২৯টি অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়ার তথ্য তুলে ধরে নাফীস বলেন, ‘আমরা খুবই আশাবাদী। বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড় গিয়ে যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, সেটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট হোক বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ভালো পারফরম্যান্স করে, বাংলাদেশি হিসেবে আমরা গর্ববোধ করি এবং আমরা মনে করি এটি আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক ব্যাপার। এতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সামগ্রিক ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়বে, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের বিশ্বব্যাপী চাহিদা বাড়বে, আমাদের খেলোয়াড়দের সেই তারকাখ্যাতি তৈরি হবে এবং এটা খুবই ইতিবাচক।’

বিদেশের মাটিতে পারফরম্যান্সই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি করছে। একটি লিগে ভালো করা মানে শুধু সেই লিগে নয়, অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও দরজা খুলে যেতে পারে। তাই বিদেশি লিগে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সাফল্যকে আরও বড় পরিসরে দেখছেন নাফীস, ‘সব কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের। আমাদের খেলোয়াড়রা তাদের পারফরম্যান্সের মান দিনকে দিন আরও ওপরে নিয়ে যাচ্ছে। এটি তাদের কঠোর পরিশ্রম, তাদের নিষ্ঠার ফসল। বিসিবি শুধু তাদের খেলতে যাওয়ার সুযোগটা করে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

কাউন্টি ক্রিকেটে হাসানের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে নাফীস বলেন, ‘হাসান অসাধারণ করেছে। কাউন্টি ক্রিকেটে তাকে কেন্টের পোস্টার বয়ই বলা যায়।’ বিদেশি লিগে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের উপস্থিতি বাড়ার পেছনে দেশের হয়ে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। হাসানের মতো মিরাজও বিদেশে সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করছেন। বিভিন্ন সময় সমালোচনার মুখে পড়লেও মিরাজের মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করেন নাফীস, ‘মিরাজকে নিয়ে আমরা বিভিন্ন সময় অনেক সমালোচনা শুনেছি। কিন্তু আমরা একটি জিনিস দেখেছি সে খুব কঠিন মানসিকতার খেলোয়াড় এবং সে তার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সবসময় ফিরে এসেছে। সে একজন দুর্দান্ত বোলার, সেটি টেস্ট হোক, ওয়ানডে হোক কিংবা টি-টোয়েন্টি। সে তার পারফরম্যান্স ঠিকই করে যাচ্ছে।’

অথচ কয়েক বছর আগেও বিদেশি লিগে খেলা নিয়ে বেশ কঠোর অবস্থান ছিল বিসিবির। জাতীয় দলের সূচি ও ওয়ার্কলোডের কথা বলে একাধিকবার ক্রিকেটারদের এনওসি আটকে দেয় বোর্ড। ২০২৩ সালে ইয়র্কশায়ারের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেট খেলার সুযোগ পেয়েও তাসকিন আহমেদকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। একই বছর লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগেও (এলপিএল) খেলতে পারেননি এ পেসার। এমনকি ২০২৪ সালে আইপিএলের ক্ষেত্রেও এনওসি পাননি তাসকিন-শরিফুল। প্রথমবার বিগ ব্যাশে খেলার সুযোগ পেয়েও জাতীয় দলের সূচির কারণে যেতে পারেননি রিশাদ হোসেন। এমন উদাহরণ আছে আরও। তবে ধীরে ধীরে এসব দৃশ্যের পরিবর্তন হচ্ছে। পরের বছর ২০২৫-২৬ মৌসুমে একই টুর্নামেন্টের পুরো মৌসুমের জন্য রিশাদকে এনওসি দেয় বিসিবি। চলতি বছর লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) দেশের একাধিক ক্রিকেটার খেলার সুযোগ পান।

তবে এখন ক্রিকেটারদের বিদেশি লিগে খেলার ছাড়পত্র সহজ করলেও জাতীয় দলের প্রয়োজনের সঙ্গে আপস করবে না বিসিবি। বর্তমানে চোটে ভোগা ডানহাতি পেসার নাহিদ রানার প্রসঙ্গ টেনে নাফীস বলেন, ‘নাহিদ এখন ফিটনেস ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে, বোলিংয়ের সক্ষমতা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে। তাকে আগে বাংলাদেশ দলের জন্য ফিট হতে দিন। তারপর যখন সেই (বিগ ব্যাশ লিগে খেলার) সুযোগটি সামনে আসবে, তখন বিসিবি অবশ্যই বিবেচনা করবে।’