মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ব্রিকসের ভূমিকা চান শি জিনপিং, ভারতে মোদির সাথে নৈকট্য বৃদ্ধির প্রয়াস

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বন্ধে ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকস জোটভুক্ত দেশগুলোকে সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই বার্তা দেন। খবর: রয়টার্স

সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে তার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দুই পারমাণবিক শক্তির বৈরী সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং পারস্পরিক নৈকট্য বৃদ্ধিতে বড় প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শি জিনপিং স্পষ্ট করে বলেন যে, এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থের পরিপন্থী এবং শান্তি ফেরাতে চীন ব্রিকসের অন্য সদস্যদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত।

রাষ্ট্রীয় সিসিটিভি শি-কে উদ্ধৃত করে বলেছে, চীন এই ভূমিকায় অন্যান্য ব্রিকস সদস্যদের সঙ্গে কাজ করবে, কারণ এই যুদ্ধ ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থের অনুকূল নয়’। 

ব্রিকস জোটটি ২০০৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের দ্বারা প্রভাবিত বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মূলত ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয় এবং পরে মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অন্তর্ভুক্ত করে এর পরিধি বাড়ানো হয়।

এর সদস্য দেশগুলোতে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশেরও বেশি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

চীনা নেতা এই জোটকে গ্লোবাল সাউথের একটি "অগ্রণী গোষ্ঠী" এবং উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে আত্মনির্ভরশীলতার একটি মডেল হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা উদ্ভাবন-চালিত উন্নয়নকে উৎসাহিত করবে।

সিসিটিভি অনুসারে, তিনি বলেছেন যে চীন আগামী বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব গ্রহণ করবে এবং ১৯তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক বৈঠকে শি বলেছেন, চীন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে একটি ‘কৌশলগত, দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ’ থেকে দেখে।

সিনহুয়া শি-কে উদ্ধৃত করে বলেছে, চীন ও ভারত একে অপরের শক্তি থেকে শিখতে পারে এবং যৌথ উন্নয়ন অর্জন করতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, সাত বছরে ভারতে শি-এর প্রথম নয়াদিল্লি সফর এই দুই বিশাল প্রতিবেশীর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও উষ্ণ করবে, কিন্তু তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্কের উন্নতির তেমন কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

১৯৬২ সালে চীন ও ভারতের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ হয়েছিল, যা তখন থেকে এক সতর্ক সম্পর্কের প্রেক্ষাপট তৈরি করে। ২০২০ সালে সীমান্তে এক সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় ও চারজন চীনা সৈন্য নিহত হওয়ার পর এই সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়। তা সত্ত্বেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে, বিশেষ করে গত বছর মোদির চীন সফরের পর এবং যখন উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের অস্থির সম্পর্ক সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।