ব্রিকস সম্মেলন: ‘একে অপরের শক্তি থেকে শিখতে পারে ভারত-চীন’, শি 

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

সাত বছর পর প্রথমবারের মতো ভারত সফরে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। খবর এনডিটিভির

২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে দুই দিনের সফরে ভারতে গেছেন শি জিনপিং। শনিবার নয়াদিল্লির বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতিন প্রসাদা। পরে সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

বৈঠকের শুরুতে মোদি শি জিনপিংকে ভারতে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে চীনের ইতিবাচক বক্তব্যের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বকালে চীনের সহযোগিতার জন্যও ধন্যবাদ জানান তিনি।

শি জিনপিং বলেন, গত ১৫ জুন নিজের জন্মদিনে ভারত সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন তিনি। গত কয়েক বছরে মোদির সঙ্গে তার ২১ বার বৈঠক হয়েছে উল্লেখ করে শি বলেন, এসব বৈঠকের মাধ্যমে ভারত-চীন সম্পর্ককে স্থিতিশীল উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, দুই দেশের জাতীয় পরিস্থিতিতে পার্থক্য থাকলেও ভারত ও চীন একে অপরের শক্তি থেকে শিখতে পারে, পরস্পরকে সহযোগিতা করতে পারে এবং অভিন্ন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, শতাব্দীতে একবার দেখা যায় এমন গভীর পরিবর্তন এবং নজিরবিহীন মহামারির পরিস্থিতিতে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ ও বৈশ্বিক দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ভারত ও চীনের ওপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। মানবজাতির ভবিষ্যৎ ও দুই দেশের জনগণের কল্যাণের কথা বিবেচনায় নিয়ে উভয় দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

শি বলেন, সমতা ও সুশৃঙ্খল বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নেওয়া উচিত। পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে ভারত ও চীনকে আরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।

দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক পর্যালোচনার পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈঠকে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি), যা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ সীমান্ত।

ভারত বরাবরই বলে আসছে, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বৃহত্তর ভারত-চীন সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে চীন ঐতিহ্যগতভাবে বলে আসছে, সীমান্ত বিরোধকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যান্য বিষয় থেকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা উচিত।

মোদি ও শির বৈঠকের আগে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মাসের শেষ দিকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক করেন।

ওই বৈঠকে সীমান্ত নির্ধারণ, আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় শান্তি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। ভারত-চীন সীমান্ত আলোচনায় অজিত দোভাল ও ওয়াং ই দুই দেশের মনোনীত বিশেষ প্রতিনিধি। ২০০৩ সালে ৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বিরোধের সমাধানের লক্ষ্যে এই বিশেষ প্রতিনিধি ব্যবস্থা চালু করা হয়।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত