একমাত্র আঁশযুক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণী

‘প্যাঙ্গোলিন’ বা ‘বনরুই’ হলো পৃথিবীর একমাত্র আঁশযুক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণী। এটি দেখতে রুই মাছের মতো আঁশযুক্ত এবং বুনো প্রকৃতির হওয়ায় ‘বনরুই’ নামে পরিচিত। বিপদের গন্ধ পেলে এরা শক্ত বলের মতো শরীর গুটিয়ে ফেলে, ফলে বাঘ বা চিতার মতো হিংস্র প্রাণী তাদের সহজে ধরতে পারে না। তারা মূলত দাঁতহীন এবং পিঁপড়া ও উইপোকা খেয়ে বাঁচে। এদের দীর্ঘ ও চটচটে জিহ্বা শরীরের দৈর্ঘ্যরে চেয়ে বড় হতে পারে। শক্তিশালী নখ দিয়ে তারা উইয়ের ঢিবি খুঁড়ে খাবার পায়। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ওষুধ হিসেবে বনরুইয়ের আঁশ চড়া দামে বিক্রি হয়। চীন ও ভিয়েতনামে বনরুইয়ের মাংসের প্রচুর চাহিদা। এ কারণে বছরে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, চীন, থাইল্যান্ড ও আফ্রিকান দেশ থেকে প্রায় ২০ টন বনরুই পাচার হয়। বনরুইকে ইংরেজিতে বলে প্যাঙ্গোলিন। এরা নিশাচর ও লাজুক প্রকৃতির। দিনের বেলা গর্তে বা পাথরের আড়ালে লুকিয়ে কাটায়। গবেষকরা বলছেন চট্টগ্রাম, সিলেট এবং মৌলভীবাজারের বিভিন্ন বনে চীনা প্রজাতির বনরুই দেখা যায়। একসময় দেশে মালয়, ভারতীয় এবং চীনা বনরুইয়ের দেখা মিলত। এখন চীনা ছাড়া বাকিগুলো প্রায় বিলুপ্ত। বিশে^ সবচেয়ে বেশি পাচার হওয়া স্তন্যপায়ী প্রাণী বনরুই। এ কারণে প্যাঙ্গোলিন বিপন্ন ও সংকটাপন্ন প্রাণী। চীনে অতিরিক্ত শিকার করার কারণে এরা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। শিকারিদের মূল নজর এখন ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বনগুলোতে। সাধারণভাবে তারা ১০-২০ বছর বাঁচতে পারে।