মোবাইলের অ্যালার্মের শব্দ ক্ষতিকর জানেন কি

আলাদা করে আর অ্যালার্ম ক্লক নেই। মোবাইলেই অ্যালার্ম দিয়ে দেন। তাই সকালে ঘুম ভাঙে তার-ই শব্দে। চোখ খোলার আগেই হাতড়ান মোবাইল। এই অভ্যাসেই হার্টের বয়স বাড়ে। ঘুম ভাঙা মাত্র স্মার্টফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখলে মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। তৈরি হয় অ্যাংজাইটি। আর এখান থেকেই হার্টের লং টার্ম ক্ষতি হয়।

অ্যালার্ম বাজা মাত্রই যে ঘুম ভেঙে যায় এমনটা নয়। ঘুম ভাঙলেও জেগে উঠতে সময় লাগে। অর্থাৎ শরীর স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে সময় নেই। ওই সময়ে স্বাভাবিকভাবেই কর্টিসল হরমোনের মাত্রা, হৃদস্পন্দন এবং রক্তচাপ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। শরীরের জৈবিক ঘড়ির এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটিকে ‘মর্নিং সার্জ’ বলে। আর ঠিক এ কারণেই অধিকাংশ হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো ঘটনাগুলো সকাল ৬টা থেকে ১০টার মধ্যে ঘটে। এই ‘মর্নিং সার্জ’-এর সময়ে, উদ্বেগজনক ঘটনা দেখেন বা নোটিফিকেশন চেক করতে থাকেন, তখন স্নায়ুতন্ত্র সরাসরি ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ মোডে চলে যায়। ফলে শরীরে দ্রুত অ্যাড্রেনালিন হরমোনের ক্ষরণ ঘটে, রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় এবং রক্তনালি সঙ্কুচিত হয়। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়।

যা করবেন : ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট মোবাইল থেকে দূরে থাকুন। শরীরকে স্বাভাবিকভাবে জাগার সময়টুকু দিন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি কোনো অ্যানালগ ঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়ে ঘুমান। সকালে হালকা শরীরচর্চা করুন, যাতে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।