ব্রিকসের জন্য পাঁচ প্রস্তাব শি জিনপিংয়ের

ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের পর্দা নেমেছে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ১১টি পূর্ণ সদস্য দেশ ও ১০টি অংশীদার দেশ এবারের সম্মেলনে অংশ নেয়। দ্বিতীয় পর্বের অধিবেশনে গতকাল রবিবার ব্রিকস সহযোগিতা আরও গভীর করার জন্য শি জিনপিং পাঁচটি উদ্যোগ প্রস্তাব করেন। এ সময় শি জোর দিয়ে বলেন গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে একসঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন রক্ষা করতে হবে। সার্বভৌম সমতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তিসহ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতিগুলো সমুন্নত রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক নিয়ম যেন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হয় এবং কোনো দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণ করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সভাপতিত্বকারী দেশ হিসেবে ভারত এবারের সম্মেলনের আলোচনার চারটি স্তম্ভ হিসেবে-সহনশীলতা, উদ্ভাবন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। গতকাল রবিবার দ্বিতীয় পর্বের অধিবেশন মূলত এ বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা হয়।

‘ব্রিকস সহযোগিতার ভিত্তি সুদৃঢ় করা, গ্লোবাল সাউথের শক্তি বাড়ানো’ শিরোনামে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন তিনি। শি বলেন, বহুপক্ষীয় সংস্থার সংস্কার ও কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগকে সমর্থন করতে হবে এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে হবে। ভাষণে চীনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, মানুষকে কেন্দ্র করে উন্নয়নের ধারণা অনুসরণ করতে হবে এবং জাতিসংঘের ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে, ঐতিহ্যগত ও অপ্রচলিত উভয় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করতে হবে।

শি’র প্রস্তাব অনুযায়ী, চীন সবার আগে ব্রিকস দেশগুলোর জন্য একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ওপেন-সোর্স জোন গড়ে তুলবে। বৃহৎ ভাষা মডেলের উন্নয়ন ও প্রয়োগে সহযোগিতা সমর্থন করবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করবে এবং একটি উন্মুক্ত এআই পরিবেশ গড়ে তুলবে। ব্রিকস দেশগুলোর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। শি বলেন, একটি স্মার্ট পোর্টাল স্থাপন করে নীতিগত সমন্বয় জোরদার করা এবং উন্মুক্ত উন্নয়নের নতুন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে এবং আগামী বছর চীন ব্রিকস দেশগুলোর সেবা বাণিজ্য ফোরাম আয়োজন করবে এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র তৈরি করবে। ভারতীয় দৈনিক দ্য স্টেটসম্যান জানিয়েছে, গতকাল রবিবারের অধিবেশনে ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে অভিন্ন স্বার্থের বিভিন্ন ক্ষেত্র ও সহযোগিতা আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন জোটভুক্ত দেশগুলো। এই অধিবেশনে ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে অভিন্ন স্বার্থের বিভিন্ন ক্ষেত্র ও সহযোগিতা আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। দ্বিতীয় দিনের আলোচ্যসূচিতে ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সরকারি ডিজিটাল অবকাঠামো ও ফিনটেকের মতো উদীয়মান প্রযুক্তিগত বিষয়।

পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান বিনিময় ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহনশীলতাও ছিল আলোচ্যসূচির একটি অংশ। এর আওতায় বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, স্বাস্থ্য সংকট ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশগুলোর প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্টেটসম্যানের প্রতিবেদন অনুসারে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রে নীতি সমন্বয়, উন্নয়ন অর্থায়ন, বাণিজ্য সহজীকরণ ও বহুপক্ষীয় শাসনব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে আলোচনা থাকবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমানো, সবুজ অর্থায়ন, জ¦ালানি খাতে রূপান্তর ও টেকসই উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা করেছে সদস্য দেশগুলো।