আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল ধর্মঘট অবৈধ

আদালতের রায় বা কোনো আদেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের স্ট্রাইক (ধর্মঘট ও হরতাল) অবৈধ ঘোষণা করেছে উচ্চ আদালত। এ ধরনের কোনো ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্তে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া রুল মঞ্জুর করে গতকাল রবিবার বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেয়। 

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সঞ্জয় ম-ল ও রিপন বাড়ৈ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আহসান হাবীব। বিআরটিসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আসিবুল হক। বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম।

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওরে ‘ডিলাক্স পরিবহন’র একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে মাইক্রোবাস আরোহী চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী মিশুক মনিরসহ পাঁচজন নিহত হন। এ ঘটনায় বাসচালক জামির হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০১৭ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের একটি আদালত ডিলাক্স পরিবহনের চালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন সাজার রায় দেয়। এ সাজার পরিপ্রেক্ষিতে বাস মালিকদের পরিবহন ধর্মঘট ও হরতাল নিয়ে ঢাকার গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে।

এ আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ১ মার্চ রুল দেয় হাইকোর্ট।  পাশাপাশি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল আহ্বান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চায় আদালত। সেই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গতকাল এ রায় হলো।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘হাইকোর্ট বলেছে, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়, কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘট ডাকা বেআইনি ও সংবিধান পরিপন্থী। কেননা সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হাইকোর্টে রায় মানা বাধ্যতামূলক।’ তিনি বলেন, আদালতের কোনো রায়, আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে স্বরাষ্ট্র সচিব, বিআরটিএ ও বিআরটিসির চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।