আগামী দুই-একদিনের মধ্যে সারা দেশে সার নিয়ে তৈরি হওয়া সংকট দূর হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, এটা যেহেতু প্রকৃত সংকট নয়, তৈরি করা হয়েছে। যার কারণে মনিটরিং টিম তৈরি করা হয়েছে। আশা করি, জাস্ট দুই-একদিনের ভেতরে সব ঠিক হয়ে যাবে।
গতকাল রবিবার বিকেলে কৃষি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন এবং এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা জানান। এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সার নিয়ে কোনো বৈঠক ওভাবে আসলে হয়নি। আমাদের কাছে এই মুহূর্তে যেই পরিমাণ সার আছে, গত বছর এক্সাক্টলি এই দিনের তুলনায় ২ লাখ টন সার বেশি আছে। সারের নিয়মটাই হলো, প্রতি সপ্তাহেই জাহাজ আসে। আমাদের একটা রিজার্ভ থাকে ১০ থেকে ১২ লাখ টন, কোনো কোনো সময় ১৫ লাখ টনও করা হয় পিক সিজনের আগে। বাকি সময়টুকু প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে এক বা একাধিক জাহাজ আসে। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী ওই আমদানিগুলো করা হয়। বাকি যেটা গুদামে রাখা হয়, ওটা রিজার্ভ সার। জরুরি সময়ের জন্য। এ জন্য মিনিমাম দুই থেকে তিন মাসের মজুদ আমাদের কাছে থাকে।
এক প্রশ্নের জবাবে আমিন উর রশিদ জানান, সারের কোনো সংকট নেই। কিছু লোক চেষ্টা করছিল সারের ক্রাইসিস তৈরি করার। আপনারা দেখেছেন, সার পাওয়া যাচ্ছে বর্ডারে, রাইস মিলে, অন্য গোডাউন ঘরে। ওখানে তো সার থাকার কথা না! যারা এই কাজটা করেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে একটা সংকট তৈরি করার জন্য। আমরা প্রায় প্রতিটা উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সার মনিটরিং কমিটি করে দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য কী ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ে যে কাজগুলো অতীতে হয়েছে, এখন হচ্ছে, আগামী দিনে হবে, এগুলো সম্পর্কে উনি জানতে চেয়েছেন। নতুন আরও কী কী যুক্ত করা যায় এবং আমরা কী কী যুক্ত করছি, দেশে কিসের ঘাটতি আছে, কী নিয়ে আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি, সব ব্যাপারেই উনি আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এটা কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য স্মরণীয় দিন।
প্রধানমন্ত্রী এসে প্রায় দুই ঘণ্টার মতো অবস্থান করলেন। আমাদের বিভিন্ন ডেভেলপমেন্ট, প্ল্যানিং, বর্তমান, অতীত এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উনি বিস্তারিত আলাপ করেছেন। ওনারও কিছু মতামত দিয়েছেন।