ইউরিয়া-টিএসপি সারের সংকট

খুলনার কয়রা উপজেলায় আমন মৌসুমে ইউরিয়া ও টিএসপি সারের সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলার কয়রা বাজার, ফুলতলা, গিলাবাড়ি ও আহমদি বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে সার না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও দোকান বন্ধ থাকায় কৃষকদের এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। আবার কিছু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।

সম্প্রতি গিলাবাড়ি বাজারে সার কিনতে আসা কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, চাহিদা অনুযায়ী ইউরিয়া সার পাওয়া যাচ্ছে না। আবার পাওয়া গেলেও কোথাও কোথাও বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে টিএসপি সারের সংকট বেশি বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

খান সাহেব কোমরউদ্দীন ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আশরাফুল আলম বলেন, ‘গত তিন দিন আমি নিজে ইউরিয়া সারের জন্য আমাদের ইউনিয়নের সার ডিলার ও ওয়ার্ডের সাব-ডিলারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে হয়রান হয়েছি। শুধু আমি নই, আমার মতো অনেক কৃষকেরই একই অবস্থা। জায়গাভেদে বিভিন্ন শর্তে কৃষকদের জর্জরিত হতে হচ্ছে। কেউ বলছেন ১০ কেজি, কেউ ২০ কেজি, আবার কেউ ৩০ কেজির বেশি একজন কৃষককে ইউরিয়া সার দেওয়া যাবে না। যে কৃষক ১০-১৫ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছেন, তার অবস্থা একবার ভাবুন।’

কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় কম সার পাওয়ায় অনেকেই সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে পারছেন না। এতে ধানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে কয়রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তিলক ঘোষ বলেন, সারের বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি গিলাবাড়ি বাজারে সরেজমিন তদন্ত করেছেন। তার দাবি, সেখানে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগের সত্যতা তিনি পাননি। তবে কৃষি বিভাগের এ বক্তব্যের সঙ্গে মাঠের চিত্রের মিল নেই বলে অভিযোগ

কৃষকদের। তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন বাজারে গিয়ে সার খুঁজলেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সার সংকট ও বিক্রির ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্রুত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।