খেলাধুলার উন্নয়নে ‘না’ নেই প্রতিমন্ত্রীর

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং তৃণমূল থেকে ক্রীড়াবিদ তুলে আনতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, শুধু আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নেওয়া নয়, ভবিষ্যতে পদকের জন্য লড়াই করতে সক্ষম ক্রীড়াবিদ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য। আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত কিউট-ডিআরইউ ক্রীড়া উৎসবের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিআরইউ আয়োজিত এ উৎসবের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এ সময়  সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি আবদুল্লাহ জাবের এবং সাবেক ক্রীড়ালেখক, সংগঠক ও ব্যাংকার সেলিম নজরুল হক উপস্থিত ছিলেন। 

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘খেলাধুলার উন্নয়নের জন্য আমার কাছে কোনো না শব্দ নেই।’ ক্রীড়াঙ্গনের যেকোনো সমস্যা সমাধানে তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।’ ক্রীড়াবিদদের পেশাদারিত্বের জায়গা শক্তিশালী করতে সরকারের নেওয়া ক্রীড়া ভাতার কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ৩০০ খেলোয়াড় ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন। চলতি মাসের শেষ দিকে আরও প্রায় ২০০ জনকে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি যোগ্য রেফারি ও কোচদেরও ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনা হবে।

আমিনুল বলেন, ‘ক্রীড়া ভাতার জন্য সরকার বছরে ৬০ কোটি টাকার বাজেট রেখেছে এবং লক্ষ্য অনুযায়ী ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এ সুবিধার আওতায় আনার কাজ চলছে।’ খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ তরুণদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও উৎসাহিত করবে বলে মনে করেন তিনি।

তৃণমূল থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির অগ্রগতিও তুলে ধরেন আমিনুল হক। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম আসরে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার অনলাইন নিবন্ধন হয়েছিল। দ্বিতীয় আসরে ইতোমধ্যে নিবন্ধন ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে প্রথম আসরের জাতীয় পর্যায়ে ভালো করা প্রায় ৩০৬ জন ক্রীড়াবিদকে নিয়ে বিকেএসপিতে দুই মাসের প্রশিক্ষণ শুরু হবে। সেখান থেকে প্রতিভাবানদের বাছাই করে সরকারি খরচে প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্কুল পর্যায়েও খেলাধুলাকে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৭ সালের শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ‘খেলাধুলা’ নামে একটি পাঠ্যপুস্তক যুক্ত করা হচ্ছে।’ এশিয়ান গেমস প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন শুধু অংশগ্রহণ নয়; আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে এশিয়ান গেমস, অলিম্পিক ও কমনওয়েলথ গেমসে পদকের জন্য লড়াই করার মতো ক্রীড়াবিদ তৈরি করা হবে।

এবারের ক্রীড়া উৎসবে ১৫টি ইভেন্টে ডিআরইউর তিন শতাধিক সাংবাদিক অংশ নেন। সেরা পুরুষ ক্রীড়াবিদ হয়ে শফিকুল কবির ট্রফি জিতে নেন এশিয়ান টিভির বাতেন বিপ্লব এবং সেরা নারী ক্রীড়াবিদ নির্বাচিত হয়ে এম আনোয়ারুল হক ট্রফি জেতেন দি প্রেসেঞ্জা নিউজ এজেন্সির জাহিদা পারভেজ ছন্দা।