সরকারি হাটের জমিতে দোকান নির্মাণের অভিযোগ গুরুদাসপুরে

নাটোরের গুরুদাসপুরে হাটের সরকারি জায়গা দখল করে স্থায়ী ও আধাপাকা দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। পুরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে মির্জা মাহমুদ নদীর পাড় ও হাটের সরকারি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক স্থাপনা গড়ে উঠলেও কার্যকর উচ্ছেদ না হওয়ায় দখল আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সর্বশেষ নজরুল ইসলাম রঞ্জু, কালাম ফকির ও বেল্লাল খাঁ নামের তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন করে তিনটি দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সরকারি জায়গায় স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের জন্য ইট, বালু ও খোয়া এনে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও সেখানে নির্মাণকাজের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রায় দুই যুগ ধরে হাটের সরকারি জায়গার একটি বড় অংশ দখল করে আধাপাকা দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। মন্তাজ, আজাদ, চাঁদ মোহাম্মদ, সবুজ, বাবলু, আবু সোনার, জয়নাল সরকার ও নজরুল সরকারসহ একাধিক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৫০ শতাংশ সরকারি জমি রয়েছে বলে দাবি তাঁদের। সেখানে অন্তত ২০টি আধাপাকা দোকানঘর থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সবকটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সাংবাদিকদের উপস্থিতির পর সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। বেল্লাল খাঁ বলেন, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি দোকান নির্মাণ বন্ধ রেখেছেন এবং নির্মাণসামগ্রীও সরিয়ে নিয়েছেন।

বাবলু ও আবু সোনার বলেন, তাঁদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য এখনো কোনো সরকারি নোটিশ পাননি। নোটিশ পেলে এবং সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রয়োগ হলে তাঁরাও জায়গা ছেড়ে দেবেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম বলেন, একটি নতুন স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং আরও দুজনকে নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। পুরোনো দখলদারদের বিরুদ্ধেও নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সরকারি হাটের জায়গা জনস্বার্থের সম্পদ। সেই জমি ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত দোকানঘরে পরিণত হলে ক্ষতি শুধু সরকারি সম্পদের নয়, সঙ্কুচিত হয় হাটের পরিসর, বাড়ে জনদুর্ভোগ এবং প্রশ্নের মুখে পড়ে প্রশাসনিক নজরদারি।

এখন স্থানীয়দের প্রশ্ন, দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কি শুধু নতুন নির্মাণেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা পুরোনো স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধেও একইভাবে অভিযান চালানো হবে?