নুসরাত হত্যা মামলায় খালাস পেয়ে সাড়ে ৭ বছর পর কারামুক্ত রুহুল আমিন ও মাকসুদ

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলায় খালাসের আদেশ পাওয়া রুহুল আমিন ও মাকসুদ আলম প্রকাশ মাকসুদ আলী কাউন্সিলর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তারা মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরে যান।

মাকসুদ আলম সোনাগাজী উপজেলার চর গণেশ এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আহসান উল্যাহর ছেলে। তিনি সোনাগাজী পৌরসভার তৎকালীন কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। অন্যদিকে রুহুল আমিন ছিলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি এবং সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন গভর্নিং বডির সহসভাপতি। তাঁর বাড়ি চরচান্দিয়া গ্রামের ভূঁইয়া বাজার এলাকার কোরবান আলী বাড়ি। তাঁর বাবার নাম মৃত কোরবান আলী।

জানা গেছে, নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলায় রুহুল আমিন, মাকসুদ আলম প্রকাশ মাকসুদ কাউন্সিলর, আফসার উদ্দিন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আব্দুল কাদের, মোহাম্মদ শামীম, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মহিলা বন্দি কামরুন্নাহার মনির খালাসের আদেশ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে ফেনী জেলা কারাগারে পৌঁছায়।

এরপর মাকসুদ আলম প্রকাশ মাকসুদ কাউন্সিলরকে ফেনী জেলা কারাগার থেকে এবং রুহুল আমিনকে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

খালাসপ্রাপ্ত অপর আটজন আফসার উদ্দিন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আব্দুল কাদের, মোহাম্মদ শামীম, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা ও ইমরান হোসেন মামুন গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন। আর মহিলা বন্দি কামরুন্নাহার মনি গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন।

২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। চার আসামি নুর উদ্দিন, সাইফুর রহমান, মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ও উম্মে সুলতানা পপির যাবজ্জীবন এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

ফেনী জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. আব্দুল জলিল ও জেলার কাজী মাজহারুল ইসলাম বলেন, নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলায় মাকসুদ আলমের খালাসের আদেশের কপি বিচারক জেলা ও দায়রা জজ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ফেনীর প্রেরিত মুক্তির আদেশের কপিসহ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে ফেনী জেলা কারাগারে পৌঁছায়। ওই আদেশের ভিত্তিতে সোমবার মাকসুদ আলম প্রকাশ মাকসুদ আলী কাউন্সিলরকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাঁর বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।