ভিএআর আর গার্দিওলের সাথে সংযোগ কি

ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর এবং অফসাইডের সূক্ষ্ম নিয়মের বেড়াজালে ফুটবলারদের ভাগ্য বদলে যাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে ক্রোয়েশিয়ান ডিফেন্ডার জসকো গার্দিওলের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি যেন এক অদ্ভুত ও নিষ্ঠুর কাকতালীয় নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্লাব ফুটবল আর আন্তর্জাতিক ফুটবল—উভয় মঞ্চেই ভিএআর বিতর্কের সমীকরণ মিলে যাচ্ছে গার্দিওলের নামের পাশে।
 
গত জুলাইয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (১০৩ মিনিটে) গার্দিওলের দুর্দান্ত এক গোল বাতিল হয়ে যায়। বলের ভেতরের অত্যাধুনিক সেন্সর ও স্নিকো প্রযুক্তিতে ধরা পড়েছিল, বিল্ড-আপে সতীর্থ স্ট্রাইকার ইগর মাতানোভিচের চুলের অগ্রভাগ বল স্পর্শ করায় অফসাইড পজিশনে চলে যান আরেক সতীর্থ পাসালিচ। যার ফলে গ্ভার্দিওল নিজে অনসাইডে থেকেও বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে গোল বাতিলের বেদনায় পুড়েছিলেন এবং ক্রোয়েশিয়া টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।
বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে গোল করছেন গার্দিওল, কিন্তু ভিএআরে তা বৈধতা পায়নি
 
তবে প্রযুক্তি যেমন তাকে কাঁদিয়েছে, তেমনি কদিন আগেই তাকে হাসিয়েছিলও। গত ২৩ আগস্ট প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে বোর্নমাউথের বিপক্ষে সিটির হয়ে নিজেই গোল করেছিলেন গার্দিওল। মাঠের রেফারি প্রাথমিকভাবে সেটিকে অফসাইড ঘোষণা করলেও, ভিএআর নাটকীয়ভাবে সিদ্ধান্ত বদলে গ্ভার্দিওলের গোলটি বৈধ বলে রায় দেয় এবং সিটিকে ২-১ ব্যবধানের জয় এনে দেয়।
 
বিশ্বকাপের সেই ‘চুলের স্পর্শে’ গোল বাতিল আর বোর্নমাউথ ম্যাচে ভিএআরে গোল ফিরে পাওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রিমিয়ার লিগের ম্যানচেস্টার ডার্বিতেও একই ধরনের অফসাইড নাটকের কেন্দ্রে চলে এলেন এই ক্রোয়েশিয়ান ডিফেন্ডার। তবে এবার তাকে একবার সুবিধাও দিয়েছে আবার তা কেড়েও নিয়েছে ভিএআর। 
 
রবিবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে ১০ জনের ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ম্যাচের ৬০ মিনিটে বাঁ দিক থেকে বক্সে নিখুঁত এক ক্রস বাড়িয়েছিলেন গার্দিওল, যা থেকে জয়সূচক গোলটি করেন আর্লিং হল্যান্ড। হল্যান্ড নিজে অনসাইডে থাকলেও গার্দিওলের ক্রসের সময় অফসাইড পজিশনে থেকে বলের দিকে লাফিয়েছিলেন সিটির আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে বিভ্রান্ত করা এনজোর এই পজিশনটি অফসাইড হওয়া সত্ত্বেও ভিএআর তা এড়িয়ে যায় এবং গোলটি বৈধ ঘোষণা করে।
ম্যানচেস্টার ডার্বিতে গার্দিওলের ক্রসে গোল করছেন আর্লিং হালান্ড
 
ম্যাচ শেষে ইংলিশ রেফারিদের মূল তদারকি সংস্থা 'প্রো রেফারি' আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে হল্যান্ডের এই গোলটিতে ভিএআর ভুল করেছিল এবং এটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল।
 
কখনো প্রযুক্তির নির্মম শিকার হওয়া, কখনো প্রযুক্তির কল্যাণে নিজের গোল ফিরে পাওয়া, আর সর্বশেষ প্রযুক্তির মারাত্মক ভুলে অ্যাসিস্টের সুবিধা পাওয়া—সব মিলিয়ে ভিএআর যেন জোসকো গার্দিওলের ফুটবল ক্যারিয়ারের এক অদ্ভুত ও বিপরীতমুখী নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।