চীনে আন্তর্জাতিক ইউরোলজি সম্মেলনে বাংলাদেশের ইউরোলজিস্টদের অংশগ্রহণ

চীনের ইউনান প্রদেশের লিজিয়াং শহরে অনুষ্ঠিত ১৩তম  ‘গোল্ডেন ব্রিজ আন্তর্জাতিক ইউরোলজি’ সম্মেলনে বাংলাদেশের ইউরোলজি চিকিৎসা ও গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট ও বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডা. মোঃ রফিকূল ইসলাম। সম্মেলনে তার গবেষণাধর্মী উপস্থাপনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে।

১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশ, চীন, যুক্তরাজ্য, ভারত, নেপাল, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ইউরোলজিস্টরা অংশ নেন।

সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অধ্যাপক ডা. মোঃ রফিকূল ইসলামের ‘টোটাল টিউবলেস মিনি-পিসিএনএল’ শীর্ষক গবেষণাধর্মী প্রেজেন্টেশন। কিডনির জটিল ও বড় আকারের পাথর অপসারণে ব্যবহৃত আধুনিক ও মিনিমালি ইনভেসিভ এই চিকিৎসাপদ্ধতির কার্যকারিতা, নিরাপত্তা, চিকিৎসা-ফলাফল এবং বাংলাদেশের মতো দেশে এর প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন। তার উপস্থাপনায় আধুনিক ইউরোলজি চিকিৎসায় প্রযুক্তিনির্ভর ও রোগীবান্ধব পদ্ধতির গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে।

সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও অংশ নেন অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম, চেয়ারম্যান, ইউরোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি; অধ্যাপক ডা. শফিকুর রহমান, সভাপতি, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইউরোলজিকাল সার্জনস এবং ডা. খন্দকার মাহবুব হোসেন। অধ্যাপক ডাঃ প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অধ্যাপক ডাঃ সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শফিকুর রহমান ও অধ্যাপক ডাঃ মোঃ রফিকূল ইসলাম নিজ নিজ গবেষণা ও প্রবন্ধ উপস্থাপনের পাশাপাশি সম্মেলনের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সেশনে চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে বাংলাদেশের ইউরোলজি চিকিৎসার সাম্প্রতিক অগ্রগতি, আধুনিক সার্জিক্যাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং চিকিৎসা ও গবেষণায় বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রশংসা করেন আয়োজকরা। বিশেষ করে বাংলাদেশে ইউরোলজি চিকিৎসায় আধুনিক মিনিমালি ইনভেসিভ ও ল্যাপারোস্কোপিক/রোবোটিক সার্জারির অগ্রগতি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়।

সম্মেলনে ইউরোলজির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনা, গবেষণা উপস্থাপনা ও লাইভ সার্জিক্যাল ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে সম্মেলনটি ইউরোলজি চিকিৎসার সর্বশেষ প্রযুক্তি, গবেষণা ও চিকিৎসা-পদ্ধতি বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।

এদিকে, কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সেকেন্ড অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বিশেষজ্ঞ বিনিময় কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।