মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমগ্র জগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন। তার প্রতি সৃষ্টিকুলের ভালোবাসা স্বভাবগত বিষয়। তাকে ভালোবেসে যুগে যুগে অসংখ্য নাত লিখেছেন বড় বড় কবি-সাহিত্যিকরা। বিখ্যাত কবি আল্লামা শেখ সাদি (রহ.) তাকে নিয়ে লিখেছেন অমর কাব্য, যা শত শত বছর ধরে নবীপ্রেমিকরা পাঠ করে আসছেন।
আল্লামা শেখ সাদি (রহ.) নবীজি (সা.)-কে নিয়ে রচনা করেছেন, ‘বালাগাল উলা বিকামালিহি, কাশাফাদদুজা বিজামালিহি, হাসুনাত জামিউ খিসালিহি, সল্লু আলাইহি ওয়া আলিহি।’ অর্থাৎ সাধনায় যিনি সুউচ্চ মর্যাদায় পূর্ণতায় পৌঁছেছেন, যার সৌন্দর্যের ছটায় বিতাড়িত হয়েছে সমস্ত আঁধার, সব সচ্চরিত্রের সম্মিলন ঘটেছে যার মধ্যে, তবে আসুন দরুদ ও সালাম জানাই তার ও তার বংশধরদের প্রতি।
আল্লামা শেখ সাদি (রহ.) আমাদের মধ্যে নেই। তার রচিত জগদ্বিখ্যাত পঙ্ক্তিটি রয়ে গেছে। বিভিন্ন মাহফিলে কিংবা দরুদের মজলিসে আশেকে রাসুলরা দরদ মাখা কণ্ঠে হৃদয় দিয়ে পড়েন, ‘বালাগাল উলা বিকামালিহি’...।
শেখ সাদি (রহ.)-এর ইন্তেকালের প্রায় সাড়ে ৮০০ বছর পরও তার লেখা নাতটি আশেকে রাসুলদের কাছে সমাদৃত। যা পাঠ করার মাধ্যমে নবীজি (সা.)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পায়। এটি মুসলমানদের হৃদয়ে এক ধরনের আত্মিক প্রশান্তি এনে দেয়।
ঐতিহাসিকভাবে জনশ্রুতি রয়েছে যে, কবি শেখ সাদি (রহ.) নাতটি রচনা করার সময় শেষের অংশ কোনোভাবেই মিলাতে পারছিলেন না। তিনি নাত শেষ করা নিয়ে ব্যাকুল হয়ে পড়েছিলেন। এক পর্যায়ে গিয়ে তিনি শেষের অংশটি নিয়ে ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়েন। তিনি স্বপ্নে দেখেন, প্রিয় নবীজি (সা.) বলছেন, তুমি লিখো ‘সল্লু আলাইহি ওয়া আলিহি’।
এই কালজয়ী নাত পাঠের সময় আশেকে রাসুলের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। শেখ সাদি (রহ.)-এর লেখা নাতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সর্বোচ্চ মর্যাদা, পূর্ণতা, নেক গুণাবলি ও সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে।
শেষ লাইন দুটিতে বলা হয়েছে, তার মধ্যে সব সচ্চরিত্র ও সুন্দর গুণাবলির সমাহার ঘটেছে, যা তাকে মানবজাতির জন্য আদর্শ করে তুলেছে। আর দরুদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাতটির শেষাংশে স্বপ্নযোগে রাসুলুল্লাহ (সা.) কর্র্তৃক শেখ সাদিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, ‘সল্লু আলাইহি ওয়া আলিহি’ অর্থাৎ তোমরা তার ও তার বংশধরদের প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করো।
এই কালজয়ী কবিতাটি শেখ সাদির বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থ গুলিস্তাঁয় পাওয়া যায়। শেখ সাদি আরবি ভাষায় যে স্বল্পসংখ্যক কবিতা লিখেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম ছিল এই কবিতাটি। এটি তিনি লিখেছেন মহানবী (সা.)-এর প্রশংসায়। আমাদের দেশে এটি দরুদ হিসেবে প্রচলিত এবং সর্বমহলে অসম্ভব জনপ্রিয় ও সমাদৃত। সব শ্রেণি-পেশার নবীপ্রেমিকরা শ্রদ্ধা ও ভক্তির সঙ্গে এটা পাঠ করেন।
লেখক : ধর্মীয় নিবন্ধকার