মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের, প্রথমবার প্রকাশ্যে স্বীকার

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন স্পেস ফোর্স জানিয়েছে, কক্ষপথে এমন কিছু ‘স্পেস কন্ট্রোল’ বা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র মোতায়েন রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের হামলা থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। খবর ফ্রান্স২৪।

সোমবার এক বিবৃতিতে মার্কিন স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের কক্ষপথে এমন মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র রয়েছে, যা প্রতিকূল কোনো পক্ষের কর্মকাণ্ড থেকে যৌথ বাহিনীকে রক্ষা করতে সক্ষম।' তবে কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে বা সেগুলোর সংখ্যা কত এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

স্পেস ফোর্স জানিয়েছে, ‘স্পেস কন্ট্রোল’ বলতে মহাকাশ ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রমকে বোঝায়। এসব সক্ষমতার মধ্যে কাইনেটিক ও নন-কাইনেটিক উভয় ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলো প্রতিপক্ষের মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং একই সঙ্গে আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—দুই ধরনের উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা সম্ভব।

রাশিয়া ও চীনকে বড় হুমকি হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতার অন্যতম প্রধান উদ্বেগের জায়গা রাশিয়া ও চীন। মার্কিন স্পেস ফোর্সের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন সামরিক আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহাকাশ ও ‘কাউন্টারস্পেস’ সক্ষমতা উন্নয়ন এবং পরিচালনা করছে।

অন্যদিকে, রাশিয়া মহাকাশকে যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে। দেশটি মনে করে, ভবিষ্যতের সংঘাতে মহাকাশে আধিপত্য একটি নির্ধারক ভূমিকা পালন করতে পারে।

মহাকাশের সামরিকীকরণ নতুন নয়

মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতার ইতিহাস অবশ্য বেশ পুরোনো। ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘স্পুটনিক’ কক্ষপথে পাঠানোর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও মস্কো মহাকাশকে সামরিক কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট ধ্বংসের উপায় খুঁজতে শুরু করে।

একসময় মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনই ছিল সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। তবে ১৯৬৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ মহাকাশ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি কক্ষপথে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক ক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র, বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র, মোতায়েন নিষিদ্ধ করে।

তবে চুক্তির বাইরে মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা থেমে থাকেনি। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইটকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা নিয়ে কাজ করেছে। সামরিক যোগাযোগ, গোয়েন্দা নজরদারি, অবস্থান নির্ণয় ও নেভিগেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় এসব সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগও ক্রমশ বাড়ছে।

মার্কিন স্পেস ফোর্সের সর্বশেষ বক্তব্য সেই দীর্ঘদিনের মহাকাশ সামরিক প্রতিযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশকে ভবিষ্যৎ সামরিক সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখার বিষয়টিও স্পষ্ট করেছে।