চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ৮ বছর আগে এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের দ্বিতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মিঠুর (৩২) বাড়ি হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মির্জাপুর গ্রামে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ উল আলম চৌধুরী।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের খিল্লাপাড়া গ্রামের ছোট্ট মিয়ার মেয়ে কলি আক্তার (১৫) নিখোঁজ হয়। পরদিন সন্ধ্যায় তার মরদেহ বাড়ির অদূরে পুকুরপাড়ের একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ১৮ অক্টোবর হাটহাজারী থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা। এজাহারে বলা হয়, নজরুল ও কলি সম্পর্কে খালাতো ভাই-বোন (তালতো ভাই-বোন) এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন নজরুল তাকে পুকুরপাড়ে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকে ফেলে দেয়।
মামলা দায়েরের পর নজরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় আসামি নজরুল। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
আসামিকে মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ার বিষয়ে আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে জানান, ঘটনাটি আগে থেকে পরিকল্পিত ছিল বলে আদালতের কাছে মনে হয়নি। আসামি ছিলেন নিরস্ত্র এবং ঘটনার সময় তার বয়স ছিল মাত্র ২৪ বছর। গ্রেপ্তারের পরদিনই তিনি দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। তার পূর্বের কোনো অপরাধের সাজাও নেই। ইতোমধ্যে আসামির ৮ বছর জেলহাজতে কেটেছে এবং তিনি ভবিষ্যতে সংশোধনের অযোগ্য—এমন কোনো তথ্য রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি।