যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে টান

ইরানের সঙ্গে প্রায় সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ কমে গেছে। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত ওয়াশিংটনের সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিদর্শক প্লাত্তে বি. মোরিংয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, অস্ত্র ও গোলাবারুদের ঘাটতির প্রধান কারণ হলো উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। প্রতিবেদনে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সংঘাতের প্রথম চার মাসের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করল।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে প্লাত্তে বি. মোরিং বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে। এর ফলে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করতে প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। তবে খুব দ্রুত এই ঘাটতি পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী চারটি এফ-১২ যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, সাতটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার এবং ৩০টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে।

প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে : যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসে ইরানের হামলায় কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে থাকা ঘাঁটির ‘শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে’। ইরানের হামলার কারণে অঞ্চলটিতে সেনাদের প্রচলিত কার্যক্রমেও বড় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। হামলার মুখে সেন্টকমকে ‘সেনা, সামরিক সরঞ্জাম ও মজুদকেন্দ্র সরিয়ে নিতে’ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আঞ্চলিক ঘাঁটি ধ্বংস হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হুং কাও সম্প্রতি বলেছেন, ইরানের হামলায় ঘাঁটিটি ‘পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে’। পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে পর্যাপ্ত নৌঘাঁটি ও সহায়ক বন্দর ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ‘উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ’ তৈরি হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আর্থিক ব্যয়ের হিসাবও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ইরানে পরিচালিত অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ প্রায় ২ হাজার ২৩০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহারে। ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে প্রায় ১৮৪ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। তবে সামরিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক হিসাব দেওয়া হয়নি।

ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ভাণ্ডারে ঘাটতির বিষয়টি এর আগেও আলোচনায় এসেছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই এ ধরনের আশঙ্কাকে অস্বীকার করে আসছেন। কয়েক সপ্তাহ আগেও তিনি দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘কার্যত অফুরন্ত’ গোলাবারুদ রয়েছে। এমনকি ওয়াশিংটনের অস্ত্রের মজুদ কমে গেছে এমন তথ্য প্রাদনকারী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি।