স্বস্তিই স্টাইল

আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাশনের সংজ্ঞা বদলে যায়। ফ্যাশনের মূল মন্ত্র এখন স্বস্তি। সাজের সৌন্দর্য শুধু পোশাকের নকশায় নয়, তার আরামেও সবার নজর। শরীরকে স্বস্তি দিয়ে, নিজের ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলেই তৈরি হয় এই সময়কার ফ্যাশন। যেখানে ট্রেন্ড থাকবে, থাকবে স্বাচ্ছন্দ্যও। লিখেছেন মোহসীনা লাইজু

ভ্যাপসা গরমে সাজগোজের কথা ভাবলেই প্রথমে মনে আসে স্বস্তির কথা। শরীরজুড়ে ঘাম, বাইরে তীব্র রোদ, মাঝে মাঝে বৃষ্টি আর বাতাসে আর্দ্রতা সব মিলিয়ে এ সময় পোশাক বাছাই বেশ কঠিন। তবে গরম মানেই যে ফ্যাশন থেকে দূরে থাকতে হবে, তা নয়। বরং আরামকে প্রাধান্য দিয়েই এখন তৈরি করা যায় পোশাকই ফ্যাশন ট্রেন্ডে জায়গা করে নেয়। পোশাকের কাট, কাপড়, রঙ ও ডিজাইনে একটু বুদ্ধিদীপ্ত নির্বাচন থাকলেই গরমেও থাকা যায় স্বচ্ছন্দ ও ফ্যাশনেবল। এ সময় মেয়েদের পোশাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে লুজ ফিটিং, আরামদায়ক কাপড় এবং সহজে পরা যায় এমন নানা ধরনের সেট।

সুতি আর লুজ ফিটিংয়ে স্বস্তি

গরমের দিনে শরীরের সঙ্গে লেগে থাকা পোশাক যতটা অস্বস্তিকর, ঢিলেঢালা পোশাক ততটাই আরামদায়ক। তাই এ সময়ের ফ্যাশনে লুজ ফিটিং পোশাকের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। শরীরের সঙ্গে আঁটসাঁটভাবে লেগে না থাকায় এসব পোশাকে বাতাস চলাচলের সুযোগ থাকে। একই সঙ্গে শরীরের ঘামও তুলনামূলকভাবে কম অস্বস্তি তৈরি করে। লুজ ফিট মানেই যে পোশাক দেখতে অগোছালো হবে, দেখতে মোটা লাগবে এমন নয়। বরং সঠিক কাট ও নকশা বেছে নিলে ঢিলেঢালা পোশাকেও তৈরি করা যায় স্মার্ট লুক। কুর্তি, টিউনিক, শার্ট, টপস কিংবা ওয়াইড লেগ প্যান্ট সবকিছুতেই এখন দেখা যাচ্ছে স্বচ্ছন্দ ফিটিং।

প্লাস সাইজে নিজের মতো

ফ্যাশনে এখন শরীরের নির্দিষ্ট গড়নকে অনুসরণ করার চেয়ে নিজের শরীর ও স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ফলে প্লাস সাইজ নারীদের জন্যও তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের ট্রেন্ডি পোশাক। গরমের দিনে প্লাস সাইজের জন্যও লুজ ফিট, এ-লাইন, স্ট্রেইট কাট বা ফ্লোইং সিলুয়েট বেশ উপযোগী।

খুব বেশি আঁটসাঁট পোশাকের বদলে কোমর ও শরীরের আশপাশে কিছুটা বাড়তি জায়গা রাখা পোশাক এ সময় বেশি আরামদায়ক। একরঙা বা ছোট প্রিন্টের পোশাকের সঙ্গে লম্বা কিমোনো, শ্রাগ বা হালকা ওড়না যোগ করেও তৈরি করা যায় আকর্ষণীয় লুক। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পোশাকের কাট যেন ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে মানানসই হয়।

কো-অর্ড সেটে সহজ স্টাইল

ফ্যাশনে অনেকদিন ধরেই বেশ জনপ্রিয় কো-অর্ড সেট। একই রঙ বা প্রিন্টের টপ ও বটম দুটো একসঙ্গে পরলেই তৈরি হয়ে যায় পরিপাটি একটি লুক। আলাদা করে পোশাক মিলিয়ে নেওয়ার ঝামেলা কম বলে ব্যস্ত নারীদের কাছেও এর জনপ্রিয়তা বেশি। গরমের জন্য সুতি, লিনেন বা হালকা ফেব্রিকের কো-অর্ড সেট বেছে নেওয়া যেতে পারে। ঢিলেঢালা শার্টের সঙ্গে একই কাপড়ের ওয়াইড লেগ প্যান্ট, আবার ছোট টপের সঙ্গে পালাজ্জো দুই ধরনের সেটই হতে পারে স্বস্তিদায়ক। অফিস, শপিং কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা পোশাক ও অনুষঙ্গ বদলে একই সেট বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা যায়। যার ফলে ক্যাজুয়াল ও ফরমাল দুই লুকেই কডসেট অনেক বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

টপসে থাকুক বৈচিত্র্য

গরমের পোশাকে টপসের বিকল্প নেই। কারণ সহজে পরা যায়, বিভিন্ন ধরনের বটমের সঙ্গে মানিয়ে যায় এবং ডিজাইনে রয়েছে অনেক বৈচিত্র্য। এ সময় বেছে নেওয়া যেতে পারে ঢিলেঢালা টি-শার্ট, বক্সি টপ, টিউনিক টপ, শার্ট-স্টাইল টপ কিংবা ক্রপড টপ।

আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে খুব ভারী কাজ বা সিনথেটিক কাপড়ের বদলে সুতি, লিনেন, ভিসকসের মতো হালকা কাপড়ের টপস বেশি আরামদায়ক। পালাজ্জো, ওয়াইড লেগ প্যান্ট, লম্বা স্কার্ট কিংবা ঢিলেঢালা জিনসের সঙ্গে টপস পরলে সহজেই তৈরি হবে ক্যাজুয়াল ফ্যাশনেবল লুক।

কাফতান সেটে অবকাশের আমেজ

গরমের পোশাকে কাফতান এখন আর শুধু ঘর কিংবা অবকাশ যাপনের পোশাক নয়। নকশায় পরিবর্তন এনে কাফতান সেট জায়গা করে নিয়েছে দৈনন্দিন ফ্যাশনেও। ঢিলেঢালা কাট ও শরীরকে ঘিরে থাকা ফ্লোইং সিলুয়েটের কারণে গরমে কাফতান বেশ আরামদায়ক। কাফতান সেটে থাকতে পারে লম্বা কাফতান ও পালাজ্জো, আবার ছোট কাফতানের সঙ্গে একই কাপড়ের প্যান্ট। একরঙা, জ্যামিতিক নকশা, ফুলেল প্রিন্ট কিংবা অ্যাবস্ট্রাক্ট মোটিফ সব ধরনের ডিজাইনেই কাফতান পাওয়া যাচ্ছে। একটু স্টাইলিশ লুকের জন্য বড় কানের দুল, সানগ্লাস ও স্যান্ডেলের সঙ্গে কাফতান সেট বেশ মানানসই।

রঙে থাকুক শীতলতা

গরমের পোশাকে রঙের নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। সাদা, অফ-হোয়াইট, ক্রিম, বেইজ, প্যাস্টেল গোলাপি, হালকা নীল, ল্যাভেন্ডার বা মিন্টের মতো নরম রঙ গরমের আবহে প্রশান্তির অনুভূতি তৈরি করে। যারা উজ্জ্বল রঙ পছন্দ করেন, তারা হলুদ বা লাল রঙের পোশাকও বেছে নিতে পারেন। হালকা রঙের পোশাকের পাশাপাশি ছোট ফুলেল প্রিন্ট, স্ট্রাইপ, জ্যামিতিক নকশা কিংবা মিনিমাল মোটিফও এ সময় বেশ মানানসই। তবে ভারী অলংকরণ এড়িয়ে হালকা ডিজাইনের পোশাক বেছে নিলে গরমে স্বস্তি বেশি পাওয়া যায়।

কাপড়েই আসল আরাম

গরমের পোশাক সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি আরামদায়ক হওয়াও জরুরি। তাই কাপড় বাছাইয়ে প্রথম পছন্দ হতে পারে সুতি। ঘাম শোষণ এবং বাতাস চলাচলের সুবিধার কারণে গরমে সুতির পোশাক বেশ স্বস্তিদায়ক। লিনেনও হতে পারে ভালো বিকল্প। এ ছাড়া হালকা ভিসকস, খাদি, ধুপিয়ান বা পাতলা জর্জেটের পোশাকও বেছে নেওয়া যায়। অন্যদিকে অতিরিক্ত ভারী, মোটা বা শরীরের সঙ্গে লেগে থাকে এমন সিনথেটিক কাপড় এ সময় যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।

পোশাকে নিজের স্টাইল

ফ্যাশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের স্বাচ্ছন্দ্য। ট্রেন্ডে আছে বলেই কোনো পোশাক পরতে হবে এমন নয়। শরীরের গড়ন, ব্যক্তিগত পছন্দ ও দৈনন্দিন কাজের ধরন অনুযায়ী পোশাক বেছে নেওয়াই ভালো। লুজ ফিটিং পোশাক পছন্দ হলে সেটিই হতে পারে আপনার স্টাইল। আবার কেউ চাইলে কাফতান, কো-অর্ড সেট কিংবা সাধারণ টপস দিয়েও নিজের আলাদা লুক তৈরি করতে পারেন।