ক্ষতিপূরণ না পেয়ে বন্ধ সড়কের কাজ, ভোগান্তিতে খাগড়াছড়ির মানুষ

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেরাছড়া ইউনিয়নের ধর্মঘর থেকে ধর্মপুর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ ও প্রসস্তকরণ কাজ বর্তমানে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে এই প্রকল্পের কাজ পরিচালিত হচ্ছিল।

অভিযোগ রয়েছে, সড়ক নির্মাণের উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণ করা জমি, ঘরবাড়ি, বাগান ও মূল্যবান গাছপালার মালিকদের চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ছিল কাজ শুরুর আগেই। তবে সড়কের প্রায় অর্ধেক অংশের নির্মাণকাজ শেষ হয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা এখনো তাদের পাওনা পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। একই কারণে জেলাজুড়ে মোট পাঁচটি সড়কের উন্নয়নকাজ বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।

সড়কের কাজ মাঝামাঝি পর্যায়ে আটকে থাকায় তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই পথ দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ। ১২ নম্বর প্রকল্প গ্রামের বাসিন্দা বকুল চন্দ্র চাকমা ও ম্রাসাথোয়াই মারমা জানান, রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কোমলমতি শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী ও চিকিৎসাধীন রোগীরা। দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত রাস্তার কাজ শেষ করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অপরদিকে, গুলকানা পাড়া ও ১২ নম্বর প্রকল্প গ্রামের ভুক্তভোগী অধিবাসী সাইক্লোন চাকমা, সোকা কান্তি চাকমা ও পূর্ণ চন্দ্র চাকমা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বকেয়া ক্ষতিপূরণ না মেটানো পর্যন্ত তারা সড়ক নির্মাণের কোনো কাজ হতে দেবেন না। তবে ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হলে কাজ পরিচালনায় কোনো আপত্তি থাকবে না বলেও নিশ্চিত করেন তারা।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার রহমান জানান, এই পুরো প্রকল্পটির কাজ মূলত এলজিইডি ও এডিবি—এই দুই ভাগে বিভক্ত। ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত দায়িত্বটি এডিবির আওতাধীন। উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং এ নিয়ে ইতোমধ্যেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যাটির সমাধান করে পুনরায় সড়ক সংস্কার ও নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।