কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক অভিযান চালিয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের সময় নারী-পুরুষসহ ২০ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।
এর মধ্যে পুলিশের অভিযানে ১৮ জন এবং কোস্টগার্ডের অভিযানে আরও দুইজনকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশের উদ্ধার করা ১৮ জনের মধ্যে দুইজন রোহিঙ্গা এবং ১৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড কচ্ছপিয়া এলাকার মেরিন ড্রাইভের ফিনিক্স ভাঙা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মানবপাচারকারী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফের দুর্গম উপকূলীয় এলাকা ব্যবহার করে ছোট মাছ ধরার নৌকায় রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নারী-পুরুষকে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ আবু সাঈদের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে অভিযান চালিয়ে ১৮ জন নারী-পুরুষকে উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে দুইজন রোহিঙ্গা ও ১৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক।
পরিদর্শক মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপরদিকে, একই দিন বাহারছড়া উপকূলীয় এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে আরও দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ২০ জনের মধ্যে ১৮ জন হলেন- উখিয়ার বালুখালী ৮ নম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের নুর ইসলামের মেয়ে শাবানা বিবি ও একই ক্যাম্পের মো. আমিনের ছেলে মো. জাবের; নরসিংদীর রায়পুরার শামসুল হকের ছেলে দেলোয়ার হোসেন, আসাদ মিয়ার ছেলে আশিক মিয়া, মৃত শাহজাহান মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া, বিল্লাল খন্দকারের ছেলে জাহিদুল খন্দকার; উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ ফাইন্নাশিয়া এলাকার রমজান আলীর ছেলে নুরুল আফসার, বালুখালী ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল গফুরের ছেলে সৈয়দ আলম, থাইংখালীর রহমতের বিল এলাকার আলমের ছেলে শাহেদ আলম রানা, ভোক্তারের ছেলে শওকত উদ্দিন মাসুদ, নতুন চরপাড়ার আব্দুল হাকিমের ছেলে কায়সার উদ্দিন, সোনারপাড়ার সালামত উল্লাহর ছেলে শাকিল; চকরিয়ার দক্ষিণ কাঁকরার আক্তার আহমদের ছেলে নুরুল আফসার, আব্দুল রশিদের ছেলে কেফায়েত উল্লাহ, জাকের আহমেদের ছেলে জমির হোসেন, আমির হোসেনের ছেলে সিফাত; কক্সবাজার সদরের সফলন্দীর নুরুল আলমের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক এবং টেকনাফ পৌরসভার কুলালপাড়ার মো. ইব্রাহিমের ছেলে সাইফুল ইসলাম।
কোস্টগার্ডের অভিযানে উদ্ধার হওয়া দুইজন হলেন- চকরিয়ার কাকরা এলাকার কারুর ছেলে জাফর আলম (৩৫) এবং নুরুল নবীর ছেলে মামুন (২০)।
স্থানীয়দের দাবি, টেকনাফের দুর্গম উপকূলীয় এলাকাগুলো ব্যবহার করে মানবপাচারকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর চেষ্টা করে আসছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে পাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হলেও চক্রগুলোর মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।