ভারতীয় দলের একাদশে ব্যাটারদের জায়গা নিয়ে মধুর সমস্যা এখন আর নতুন কিছু নয়। যেমনটা দেখা গেল আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেও। জিম্বাবুয়ে সিরিজে ব্যাট হাতে দারুণ পারফর্ম করা ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশী সিরিজের শুরুর দুই ম্যাচে জায়গা পাননি একাদশে। দুই ওপেনার সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা যখন দারুণ ফর্মে তখন একাদশে সূর্যবংশীর জায়গাটা কিছুটা কঠিনই বটে।
অনেকে আবার এটিকে সূর্যবংশীর সঙ্গে স্যামসনের একাদশে জায়গা লড়াই হিসেবে দেখছে, তবে সব সমীকরণ ছাপিয়ে দলের স্বার্থই যে সবার ওপরে, সেটি পরিষ্কার করে দিলেন স্যামসন।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে দলের ভেতরকার প্রতিযোগিতা এবং জিম্বাবুয়ে সিরিজে দারুণ পারফর্ম করে সিরিজসেরা হওয়া সূর্যবংশীর একাদশে সুযোগ পাওয়া নিয়ে স্যামসন বলেন, ‘আমি যেমনটা আগেও বলেছি, ভারতীয় দলের হয়ে খেলা এবং রান করা সহজ কোনো বিষয় নয়। আপনি একজন ১৫ বছর বয়সী ছেলেকে দেখছেন যে ৭০০-৮০০ রান করে এসেছে। তার আগের টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ছিলাম আমি। এরপর তাদের পারফরম্যান্স এতটাই ভালো ছিল যে তাকে অন্য কোনোভাবে দলে আসতেই হতো। আমি দুই থেকে তিন ম্যাচে পারফর্ম করতে পারিনি এবং সে ফর্মে ছিল। আমরা সেই সিরিজে ম্যাচ জিততে চেয়েছিলাম এবং নেতৃত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি খুবই বোধগম্য ছিল।’
একাদশে জায়গা পাওয়া বা না পাওয়া নিয়ে খেলোয়াড়দের মানসিকতা কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে স্যামসন আরও যোগ করেন, ‘আমি মনে করি তারা (বৈভব ও অভিষেক শর্মা) বাইরের দুনিয়ার কাছে প্রতিযোগী, কিন্তু আমরা একটি দল এবং আমরা দেশের হয়ে খেলছি। আমরা প্রথমে ম্যাচ জিততে চাই, আর তারপরে অন্য ব্যক্তিদের কথা আসে। আমরা হতাশ হতে পারি না বা নেতিবাচক মানসিকতায় থাকতে পারি না, যেমন ভাবা ‘আমাকে দিল না, ওকে কেন দিল?’ এই ধরনের মানসিকতা এখানে কাজ করে না।’
এদিকে ক্রিকেটারদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বাইরের সমালোচনার প্রভাব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও রসিকতার ছলে তুলে ধরেছেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। জানালেন এমন কিছু এড়াতে বাড়ির ওয়াই-ফাই'টাই বন্ধ করে দেন তিনি। ‘আমি ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু মাঝে মাঝে ওয়াই-ফাই চালু হয়ে যায় এবং কমেন্টগুলো দৃশ্যমান হয়। কোনো সিনিয়র খেলোয়াড় কিছু একটা বলে। তাই আমি মনে করি এটা খুবই স্বাভাবিক। ভারতীয় ক্রিকেটারদের ওপর বাইরের গোলমাল অবশ্যই প্রভাব ফেলে। কিন্তু আপনার মানসিকতা, কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং কোন মানসিকতা নিয়ে খেলতে হবে, সে বিষয়ে আপনার খুব পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে।’
প্রথম ম্যাচে কিছুটা সংগ্রাম করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ২২ বলে ঝোড়ো ৫৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলে ভারতকে জয় এনে দেম স্যামসন। এতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে স্বল্প ওভারের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিয়েছে ভারত।