ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দুই নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গত মঙ্গলবার রাতে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রেস ব্রিফিংয়ে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৯ (এসআরবি) সিলেটের অধিনায়ক উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান চৌধুরী এসব তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মুজাহিদ (১৮) ব্রাম্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানার বুড্ডা এলাকার আঙ্গুর মিয়ার ছেলে।

এসআরবি জানায়, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করার জন্য গত ৮ সেপ্টেম্বর মুজাহিদ ‘রাকিব’ ছদ্মনামে ফেইসবুকের মাধ্যমে কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার একটি নৃত্যশিল্পী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে নৃত্যশিল্পী দলের তিন সদস্য ১৬ ও ১৯ বছর বয়সী দুই নারী এবং সাঈদ হোসেন নামের এক পুরুষ গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের কুট্টাপাড়া বিশ্বরোড এলাকায় আসেন। পরে রাকিবসহ দুই যুবক তাদের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে শাহবাজপুর সেতু এলাকায় নিয়ে যান।

সেখান থেকে তিন নৃত্যশিল্পীকে নিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি তিতাস নদীর মধ্যবর্তী স্থানে গেলে রাকিব নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন। এ সময় নৌকার ছাউনির ভেতরে প্রবেশ করে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। পরে নাসিরনগরের গোকর্ণঘাট এলাকায় তিনজনকে নামিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর তিনজন নাসিরনগর থানায় যান। ঘটনাস্থল সরাইল থানার আওতাধীন হওয়ায় পরে তারা সরাইল থানায় গিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

ব্রিফিংয়ে উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘এ মামলার একজন আসামি সত্য বিশ্বাসকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার প্রধান আসামি মুজাহিদের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। তবে তদন্তের স্বার্থে মামলার অন্য আসামিদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।’

এসআরবি আরও জানায়, তথ্য পাওয়ার পর পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালানো হয়। এক ডেকোরেটর ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুজাহিদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। পরে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে বিয়ানীবাজারে তার নানার বাড়িতে আশ্রয় নেন। মঙ্গলবার রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুজাহিদ ফেইসবুকের একটি গ্রুপের মাধ্যমে নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাদের অনুষ্ঠানে নেওয়ার জন্য চুক্তির কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ২ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন সহযোগি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’