আদালতে খারিজ রিজওয়ানের আবেদন, বাড়ছে আইনি চাপ 

আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেলেন পাকিস্তানের উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। দেশটির সাইবার অপরাধ তদন্ত সংস্থা (এনসিসিআইএ)-এর কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করে লাহোর হাইকোর্টে করা তার রিট আবেদনটি একটি সংক্ষিপ্ত শুনানির পর খারিজ করে দিয়েছে আদালত। এর ফলে ওই সংস্থার করা প্রশ্নের জবাব দিতেই হচ্ছে রিজওয়ানকে। 

অনলাইন বেটিং বা জুয়া সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গত সপ্তাহে রিজওয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল দেশটির সাইবার ক্রাইম এজেন্সি। সতীর্থ ইমাম-উল-হক সংস্থাসংশ্লিষ্ট প্রশ্নমালার উত্তর লিখিতভাবে পাঠিয়ে দিলেও, রিজওয়ান আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। হাইকোর্টে দাখিল করা আবেদনে তার আইনজীবীরা যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, কী কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বা এখতিয়ার নেই ওই সংস্থার।

আদালতে জমা দেওয়া রিট আবেদনে রিজওয়ান সরাসরি অভিযোগ করেন যে, তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ ‘সম্পূর্ণরূপে ভ্রান্ত, বানোয়াট, কাল্পনিক এবং অস্পষ্ট এবং আবেদনকারীর স্বার্থ ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার একটি কুৎসিত ও দুর্বল প্রচেষ্টা মাত্র।’ 

এছাড়া মামলার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবেদনে আরও বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বেটিং এবং স্পট-ফিক্সিংয়ের অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসির অ্যান্টি-করপশন ইউনিট বিশেষভাবে গঠিত ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত।’

লাহোর হাইকোর্টে দায়ের করা ওই আবেদনে আরও দাবি করা হয় যে, এ বিষয়ে আইসিসির কাছে কোনো তথ্য পাঠানো হয়নি এবং আইনি ভিত্তি ছাড়াই সাইবার এজেন্সি এই এখতিয়ার নিয়েছে।

সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরে লর্ডস টেস্টে ১৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হারের পরই মূলত সংকটের শুরু। সেই হারের পর রিজওয়ান, ইমামসহ সাতজন খেলোয়াড় এবং প্রধান কোচ ও বোলিং কোচকে দেশে ফিরিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। রিজওয়ানের দাবি, ইংল্যান্ডে দলের টিম হোটেলের লবিতে গভীর রাতে (রাত ১:০০টায়) তাকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল এবং কোনো লিখিত নোটিশ বা সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে তিন ঘণ্টার মধ্যে ফোন ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও সেটি আর পাননি তিনি।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পিসিবিও দলের শৃঙ্খলা ও আচরণ নিয়ে একটি পৃথক অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে।