আদালতের জামিন আদেশ অমান্য, চট্টগ্রাম জেল সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

যথাসময়ে জামিননামা পৌঁছানোর পরও উচ্চ আদালতের জামিন আদেশ কার্যকর না করে ইলিয়াছ হোসেন নামের এক হাজতিকে অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এ নোটিশ জারি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে ইলিয়াছ হোসেনের আইনজীবী এফ এম আনসার উল্লাহ বলেন, ‘আমার মক্কেলের উচ্চ আদালতের জামিন আদেশ গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় কারা কর্তৃপক্ষ রিসিভ করেন। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও আসামি মুক্তি পাননি।’

তিনি বলেন, বিচারিক আদেশ লঙ্ঘন ও অবৈধ আটকের ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছেন আদালত। আগামী দুই দিনের মধ্যে এ বিষয়ে লিখিত জবাব দাখিল করতে কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার কথা স্বীকার করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গতকাল বুধবার দুই শতাধিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। একজন হাজতিকে মুক্তি দিতে আমাদের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। হাজতি ইলিয়াছ হোসেনের বিষয়ে নিশ্চয় কোনো একটা সমস্যা হয়েছে। আমরা আদালতকে বিষয়টির জবাব দেব। আর না হয় ক্ষমা চাইব।’

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে জামিননামা যথাসময়ে পৌঁছানোর পরও বেআইনিভাবে হাজতি ইলিয়াছ হোসেনকে আটকে রাখায় কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন আইনজীবী এফ এম আনসার উল্লাহ।

আইনজীবী এফ এম আনসার উল্লাহ বলেন, ‘জামিন পাওয়া সত্ত্বেও হাজতি ইলিয়াছ হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো পেন্ডিং পি-ডব্লিউ (প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট) অথবা আগের কোনো মামলার সি-ডব্লিউ (কাস্টডি ওয়ারেন্ট) আদেশ না থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আদালতের আদেশ অমান্য করে আসামিকে আটকে রাখে কারা কর্তৃপক্ষ। এটা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।’

জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর নগরের কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি মিস মামলা (৫০১৩১/২০২৬) মূলে এক বছরের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান ইলিয়াছ হোসেন। যথানিয়মে নিম্ন আদালতে দাখিলের পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় জামিননামা রিসিভ করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ।

আরও জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানাধীন ঘাসিয়ারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. ইদ্রিসের ছেলে ইলিয়াছ হোসেনকে (২৫) ২০২৪ ও ২০২৫ সালে চকবাজার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া পৃথক তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার করে গত ৬ জুন আদালতে সোপর্দ করা হয়।

প্রসঙ্গত, আসামি ইলিয়াছ হোসেন চট্টগ্রামের ওমর গণি এমইএস বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক। গত ১৪ মে নগরের জমিয়তুল ফালাহ মাঠে সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজাকে ঘিরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নগরের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আরও একটি মামলায় ২৭(৫)/২৬ ধারায় ইলিয়াছ হোসেনকে আদালতের নির্দেশে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।