তহবিল আত্মসাৎ, বারে বেচাকেনার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনে চট্টগ্রাম ক্লাবের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন মোরশেদ আরিফ চৌধুরী নামে ওই ক্লাবের সিনিয়র এক সদস্য। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মহিদুল ইসলামের আদালতে তিনি এ মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার ধার্য তারিখ ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।
মামলার অভিযুক্তরা হলেন, ক্লাবের ২০২৫ সালের কার্যকরী কমিটির চেয়ারম্যান শোভন এম শাহাবুদ্দিন রাজ, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সৈয়দুল আনোয়ার ফারহাদ, জেনারেল কমিটির সদস্য (বার ইনচার্জ) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সেক্রেটারি অবসরপ্রাপ্ত কমান্ডার মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন এবং চিফ ফিন্যান্স অফিসার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসাইন চৌধুরী। বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী অলক কান্তি দাশ। মামলার আরজিতে অভিযোগ করে বলা হয়, অভিযুক্তরা দায়িত্ব পালনের সময় পরস্পর যোগসাজশে ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের হোটেল রেডিসন ব্লু শাখায় ক্লাবের হিসাব থেকে ৩৪ লাখ ২ হাজার ৩৩০ টাকা তুলে নেন। ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই যৌথ স্বাক্ষরে এই টাকা তোলা হয়। কিন্তু সেটা ক্লাবের কাজে ব্যবহার না করে আত্মসাৎ করা হয়।
ক্লাবের বার শাখায় নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ করে মামলার আরজিতে আরও বলা হয়, নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৫ সালে ক্লাবে ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৯ টাকার মদ বিক্রি করা হয়। কিন্তু এ বিপুল পরিমাণ মদ সংগ্রহের কোনো বৈধ লাইসেন্স বা কাস্টমস শুল্ক পরিশোধের প্রমাণ নেই। এছাড়া মদ কেনা-বেচার বৈধ চালান, নথিপত্রে কোনো হিসাব সংরক্ষণ করা হয়নি। ক্লাবের প্রত্যেক সদস্যের বকেয়া ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে পরিশোধের কথা। কিন্তু বার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন তার বকেয়া পরিশোধ না করেই ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নেন।