অতিথি আপ্যায়নের ফজিলত

ইসলামি সংস্কৃতি ও মুসলিম ঐতিহ্যের অন্যতম সৌন্দর্য অতিথি আপ্যায়ন। আন্তরিকভাবে অতিথি আপ্যায়ন করা ইমানের অন্যতম প্রকাশ এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উৎকৃষ্ট মাধ্যম। অতিথি আপ্যায়নের ফজিলত ও অশেষ সওয়াবের কথা হাদিস শরিফে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ ও শেষ বিচারের দিনের (কেয়ামত) প্রতি ইমান রাখে, সে যেন তার অতিথিকে সম্মান করে।’ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

অতিথিকে খাওয়ানো ও তার স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যয় করাকে ইসলাম সদকা বা নফল দানের সমতুল্য সওয়াব হিসেবে গণ্য করে। হজরত আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন কোনো অতিথি কোনো গোত্র বা ঘরে আগমন করে, সে তার রিজিক নিয়ে আগমন করে। আর যখন সে প্রস্থান করে, তখন সে তাদের (গৃহস্থের) গুনাহগুলো মাফ করিয়ে প্রস্থান করে।’ (শুআবুল ইমান)

হরজত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘এক রাত মেহমানদারি করা মুসলিমের কর্তব্য। যার আঙ্গিনায় মেহমান নামে, একদিন মেহমানদারি করা তার ওপর ঋণ পরিশোধের সমান।’ (আবু দাউদ) তিনি আরও বলেন, ‘মেহমানদারি তিন দিন, আর সর্বোত্তম মেহমানদারি এক দিন ও এক রাত।’ (সহিহ মুসলিম) এই সময়সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে ইসলাম উভয় পক্ষের অধিকার রক্ষার ভারসাম্য বজায় রেখেছে।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের পর মাদানি জিন্দেগির শুরুতে প্রথম যে উপদেশগুলো দিয়েছিলেন তার মধ্যে একটি ছিল, ‘হে লোকসকল! তোমরা সালামের বিস্তার করো, আহার করাও (মেহমানদারি ও গরিবকে খাদ্য দাও) এবং মানুষ যখন রাতে ঘুমিয়ে থাকে তখন নামাজ পড়ো, তাহলে তোমরা শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (তিরমিজি)

মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষায় মেহমানদারি কেবল বিত্তশালীদের জন্য নির্ধারিত নয়। বরং তা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী মেহমানদারি করবে। সামর্থ্য অনুযায়ী সামান্য এক চুমুক পানি বা একটি খেজুর দিয়ে হলেও মেহমানদারিতে আন্তরিকতা থাকলে মহান আল্লাহ আখেরাতে মহাপুরস্কার ও মর্যাদা দান করবেন।

লেখক : শিক্ষক ও ইসলামি গবেষক