গানগুলো আমার সন্তানের মতো বৈচিত্র্য উপহার দেওয়াই লক্ষ্য

গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও গায়ক তরুণ মুন্সী নব্বই দশক থেকে দেশের সংগীতাঙ্গনে সক্রিয়। বেশকিছু শ্রোতানন্দিত গানের এই স্রষ্টা এবার নিজের কণ্ঠের পাশাপাশি সুর ও কথায় সাজানো একটি বিশেষ একক অ্যালবাম নিয়ে হাজির হচ্ছেন। ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের ব্যানারে প্রকাশ হতে যাওয়া এই অ্যালবামের গল্প, ভাবনা এবং অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেনÑ তারেক আনন্দ

প্রকাশ হতে যাচ্ছে নতুন একক অ্যালবাম। নিশ্চয়ই সব গানের কথা ও সুর আপনার? অ্যালবাম করার চিন্তা হুট করে কীভাবে এলো?

এটি একটি সম্পূর্ণ একক চেষ্টা। সংগীতাঙ্গনে এখন সিঙ্গেলসের যুগ। এ সময়ে ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের কর্ণধার ধ্রুব গুহ দাদা আমাকে একসঙ্গে একাধিক গান নিয়ে একটি অ্যালবাম করার প্রস্তাব দেন। একক গান দিয়ে অনেক সময় কাজের ভার্সাট্যালিটি বা বৈচিত্র্য পুরোপুরি ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয় না। অ্যালবামে নিজের মনের মতো করে লিরিক্স ও কম্পোজিশনে নানা এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ থাকে। এ সময়ে এমন প্রস্তাব পাওয়া দারুণ ব্যাপার। দাদার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

গান নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়েছেন?

আমি চেয়েছি বৈচিত্র্য ধরে রাখতে। আমার এখানে মোট সাতটি গান থাকছে। যার মধ্যে প্রেম, বিরহ, প্রকৃতির গল্প যেমন আছে, তেমনই আছে মানবজীবন, দেহতত্ত্ব ও সমাজ ভাবনার কথা। উদাহরণস্বরূপ, ‘জোছনাকে বলেছি’ গানে যেমন প্রকৃতির ছোঁয়া মিলবে, তেমনই ‘সাপ’ নামের গানটিতে সমাজ ও মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো ফুটে উঠবে। এ ছাড়া ‘কতদিন মন বাড়ি ফেরে নাই’ ও ‘ওরে মানুষ মইরা গেলে’ গানগুলোতে মানুষের জীবনসংগ্রামের গভীর কথা আছে। আর ‘নসিব’ গানটি আমি খাঁটি ফোক ধাঁচে করার চেষ্টা করেছি। একটি ডুয়েট গানও থাকছে, ‘দুষ্টু হাওয়া’। সব মিলিয়ে এ সময়ে শ্রোতাদের যেন একটা সম্পূর্ণ প্যাক উপহার দেওয়া যায়, সেই চিন্তাই ছিল।

নতুন জেনারেশনের কথা কি মাথায় ছিল, নাকি নিজের মতো করেই কাজ করেছেন?

নব্বইয়ের দশক থেকে গানের সঙ্গে আমার বসবাস। কোনো নির্দিষ্ট বয়স বা টার্গেট অডিয়েন্স মাথায় রেখে গান বাঁধার অভ্যাস আমার কখনো ছিল না। এখনকার শ্রোতারা অনেক ম্যাচিউর। যেকোনো বয়সের মানুষ যেকোনো সাবজেক্ট গ্রহণ করতে পারেন। তাই আমি আমার সততা ও ভালো লাগার জায়গা থেকেই গান তৈরি করেছি।

আপনার কথা ও সুরে অন্য শিল্পীদের অনেক হিট গান আছে। গায়ক হিসেবে আপনি কি নিজেকে কিছুটা পিছিয়ে রাখা মনে করেন?

না, একদমই তা মনে করি না। যারা আমাকে চেনেন তারা জানেন, আমি কেবল একজন কণ্ঠনির্ভর শিল্পী হতে চাইনি। প্রায় ৩৫ বছরের পথচলায় নিজের কথা, সুর ও কণ্ঠে যেমন গান করেছি, তেমনি অন্য শিল্পীদের জন্যও সৃষ্টি করেছি। আল্লাহ আমাকে যেখানে রেখেছেন তাতে আমি তৃপ্ত। আমি আমার গ-ি পেরিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা পূরণ হয়েছে। এতে কোনো আক্ষেপ নেই, বরং আমি বলব, নিজের জায়গায় আমি সফল।

অ্যালবামের গানগুলো নিয়ে আপনার প্রত্যাশা? কবে নাগাদ রিলিজ হতে পারে?

আমার তৈরি প্রতিটি গান সন্তানের মতো। তাই প্রত্যাশার শেষ নেই। আমি চেষ্টা করেছি সাতটি গানের প্রতিটিকে জাস্টিফাই করতে। দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে খুব শিগগির একটি শুভক্ষণে অ্যালবামটি রিলিজ করার পরিকল্পনা আছে। সবকিছু ঠিক থাকলে অক্টোবরেই ধ্রুব মিউজিক স্টেশন থেকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রোতাদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছি।