স্বামী পরিত্যক্তাকে বিয়ে

যুবককে ৫ লাখ টাকা জরিমানা-গ্রাম ছাড়ার অভিযোগ

শরীয়তপুরের জাজিরার এক যুবক স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে বিয়ে করায় তাকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে গ্রাম ছাড়া করেছে স্থানীয় সালিশি লোকজন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টা জানাজানি হয়। এ ঘটনায় জাজিরা থানায় একটি অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই যুবক।

এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর উপজেলার মনাই ছৈয়াল কান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই যুবক স্থানীয় প্রভাবশালী ও সালিশি লোকজনের ভয়ে ৯ দিন ধরে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

ভুক্তভোগী রতন সরদার (৪৫) ওই গ্রামের মৃত রাজ্জাক সরদারের ছেলে। এছাড়া সালিশ পরিচালনাকারী ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

থানায় অভিযোগ ও স্থানীয়রা জানায়, জাজিরা উপজেলার মনাই ছৈয়াল কান্দি গ্রামের রতন সরকারের সঙ্গে একই গ্রামের রুবেল শিকদারের (৪৪) বন্ধুত্ব। পারিবারিক কলহের জেরে ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবরে রুবেল শিকদার তার স্ত্রী রুবিনা আক্তারকে ডিভোর্স দেন। পরে রুবিনাকে গত ৩ আগস্ট বিয়ে করেন রতন সরদার। বিয়ের পর থেকেই পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে রতনকে হেয় প্রতিপন্ন করাতে চায় রুবেল ও তার লোকজন।

পরবর্তীতে ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পাঁচশতাধিক লোকজন নিয়ে মনাই ছৈয়াল কান্দি এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মতিউর রহমান খানের বাড়িতে সালিশ বৈঠক বসায়। সেখানে রতনের বিরুদ্ধে পরকীয়াসহ কোন ধরনের অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ার সত্তেও তাকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানাসহ ৯ সেপ্টেম্বর সূর্য উঠার আগে গ্রাম ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ভয়ভীতি দেখিয়ে রতনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া রুবেলের পরিবারের কাছে রতনের জমি বন্ধক রাখার একলাখ টাকা কেটে নেওয়া হয়। বাকি চার লাখ ৪০ হাজার টাকা একমাসের মধ্যে তিন কিস্তিতে পরিশোধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সালিশ জাজিরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ বেপারী বলেন, ‘পরকীয়ার প্রমানসহ কোনো অপরাধ পাইনি তবুও বেশিরভাগ সালিশি লোকজন রতন সরদারকে জরিমানা করেছে। আমি একা প্রতিবাদ করে কি করবো! আমি এটাও বলেছি গ্রামের বিচারে সর্বোচ্চ জরিমানা হয় ৩ লাখ টাকা। বিচারে বেশিরভাগ সালিশদের উদ্দেশ্য কি ছিল আমি জানি না।’

সালিশের একজন পরিচালক রাজ্জাক বেপারী বলেন, ‘রতন সরদারকে আমরা সালিশরা জিজ্ঞেস করেছি যে তুমি রুবিনাকে কিভাবে বিয়ে করলা, তুমিতো আগে একটা বিয়ে করেছো! তখন রতন বলে, আমাকে ঝালমুড়ি খাইয়ে কিভাবে কি করছে আমি জানি না। তখন আমরা সালিশরা চিন্তা করলাম তাহলেতো আর সাক্ষী লাগে না। রতনের কারণেই রুবেল শিকদারের বিয়ে ভেঙে গেছে, জেল খেটেছে, আবার তার বউকে রতন বিয়ে করেছে। তাই আমরা সালিশরা জুরি ভোটে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছি। পরে মাফ চাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। পরে রতন সরদারকে গ্রাম ছাড়া করা হয়।’

রতন সরদারের প্রথম স্ত্রী হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছে তাতে আমার সম্মতি ছিল। আমার স্বামীর কোন অপরাধ নেই। তবুও জোর করে জাহাঙ্গীর, রুবেল শিকদার, মোশারফ বেপারী, জামাল শেখ, লতিফ খানরা মিলে আমার স্বামীকে জরিমানা করেছে। আবার ঘর ছাড়া করেছে।’

রুবেল শিকদার বলেন, আমার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া করে আমার সংসার তছনছ করে দিয়েছে রতন সরদার। আবার আমার স্ত্রীকে বিয়ে করেছে। আমি আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

তবে রতন সরদার বলেন, ‘রুবিনার সঙ্গে রুবেল শিকদারের ডির্ভোস হয় ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে। আর আমি বিয়ে করি গত মাসে। তাহলে আমি কি অপরাধ করেছি। রুবেলের পরিবার ও স্থানীয় সালিশি ব্যক্তিরা আমার উপর জুলুম করেছে।’

এবিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহাম্মদ বলেন, ‘এব্যাপারে রতন সরদার একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। থানার এসআই হেমায়েতকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমান হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’