নাটোরের সিংড়া পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ চাউলপট্টি ছাদ ও কাঁচাবাজারের টিনের চাল দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পুরোনো ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়া ও জরাজীর্ণতার চিহ্ন দেখা দিয়েছে। এতে প্রতিদিন বাজারে আসা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে সিংড়া পৌরসভা চাউলপট্টি ও কাঁচাবাজারটি নির্মাণ করে। নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটির বড় ধরনের সংস্কার বা কাঠামোগত মেরামত হয়নি। বর্তমানে বাজারটিতে প্রায় ৮০ থেকে ৯০টি দোকান রয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব দোকানে বিপুলসংখ্যক ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বাজারের ছাদ ও ভবনের বিভিন্ন অংশের অবস্থা ক্রমেই নাজুক হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। পুরোনো ভবনের কারণে সামান্য অংশ ধসে পড়লেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
মুড়ি ব্যবসায়ী মো. হিরা বলেন, বাজারটি অনেক পুরোনো। দীর্ঘদিন ধরে ছাদ ও ভবনের প্রয়োজনীয় সংস্কার হয়নি। আমরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে দোকানে বসি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
কাঁচা সবজি ব্যবসায়ী সেন্টু বলেন, প্রতিদিন এখানে অনেক মানুষ কেনাকাটা করতে আসেন। কর্তৃপক্ষ দ্রুত বাজারটি পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ মেরামত করলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের আতঙ্ক কমবে।
চাল ব্যবসায়ী নরোত্তম সাহা বলেন, বাজারটি দীর্ঘদিনের পুরোনো। এখন ভবনের বয়সও অনেক হয়েছে। শুধু ওপর থেকে মেরামত নয়, পুরো কাঠামো পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা দরকার।
চাল ব্যবসায়ী মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ অংশ চিহ্নিত করে সংস্কার করা জরুরি। আমরা পৌর কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ চাই।
চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মাহাবুর রহমান বলেন, চাউলপট্টি ও কাঁচাবাজার সিংড়া শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার। এখানে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ আসেন। ভবনের ছাদসহ বিভিন্ন অংশের অবস্থা দ্রুত সংস্কারের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করছি।
এ বিষয়ে সিংড়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, আমাদের কাছে কিছু বরাদ্দ এসেছে, এটা দিয়ে বাজারের চাউলপট্টির ছাদ সংস্কার করা হবে। যাতে মানুষ জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কেনাবেচা করতে পারে।