গাঙ্গুলির বায়োপিক শুটিংয়ে পিচ নষ্টে ২৭ পয়েন্ট কাটা লেস্টারশায়ারের! 

ভারতের সাবেক সফল অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীর বায়োপিকের শুটিংয়ের খেসারত হিসেবে বড় এক শাস্তির মুখে পড়েছে কাউন্টি ক্লাব লেস্টারশায়ার। গ্রেস রোডের মাঠে ‘অনুমতিহীন’ এক চিত্রায়ণকে কেন্দ্র করে পিচের মান নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরে ক্রিকেট ডিসিপ্লিন প্যানেলের রায়ে ২৭ পয়েন্ট হারিয়ে তালিকার তলানিতে নেমে গেছে লেস্টারশায়ার। এতে কাউন্টি দলটি এখন ডিভিশন ওয়ান থেকে অবনমনের খাদের কিনারায় এসেও দাঁড়িয়েছে।

গত আগস্টে গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে ঘরের মাঠে হওয়া ম্যাচে নিম্নমানের পিচ প্রস্তুতের গুরুতর অভিযোগ ওঠে লেস্টারশায়ারের বিরুদ্ধে। বিষয়টি গড়ায় ক্রিকেট ডিসিপ্লিন প্যানেল পর্যন্ত। তদন্তে উঠে আসে, ম্যাচটির মাত্র চার দিন আগে গ্রেস রোডের উইকেটে হয়েছিল সৌরভ গাঙ্গুলীর বায়োপিকের শুটিং।

বলিউড অভিনেতা রাজকুমার রাও অভিনীত এই সিনেমার শুটিংয়ের কারণে দীর্ঘ প্রায় আট ঘণ্টা তীব্র রোদের মাঝে খোলা ছিল পিচ। ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে নিজের সাফাই গেয়ে প্রধান পিচ কিউরেটর ক্যালাম লেভিন বলেন, ‘ম্যাচের আগে এমন কিছু পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যা সম্পূর্ণ আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। যেমন তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি এবং ম্যাচের চার দিন আগে আমাদের একটি অননুমোদিত বলিউড শুটিংয়ের ঘটনা ঘটেছিল। তখন আমাকে পিচে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি, এমনকি পিচ ঢেকে রাখার বা অন্য কোনো কিছু করারও অনুমতি ছিল না।’

তবে কিউরেটরের এই যুক্তি পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে ডিসিপ্লিন প্যানেল। তাদের মতে, শুটিং মাত্র এক দিনের হলেও পিচ সুরক্ষার যথাযথ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়িত্ব ক্লাব কর্তৃপক্ষেরই ছিল। 

পরবর্তীতে ম্যাচ রেফারি ইয়ান রামেজের পেশ করা রিপোর্টে উইকেটের ভয়াবহতাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ম্যাচের দিন পিচজুড়ে দেখা দেয় অসম বাউন্স, ফাটল ও মাটির অস্বাভাবিক নড়াচড়া। ম্যাচ চলাকালীন মাঠে এমন ৪৩টি বিপজ্জনক অসম বাউন্সের ঘটনা নিজের লগে নথিভুক্ত করেছিলেন রেফারি। যদিও প্যানেল এক রায়ে স্বীকার করেছে যে লেস্টারশায়ার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো বাজে পিচ তৈরি করেনি, তবে তাদের সামগ্রিক রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি ছিল সম্পূর্ণ ‘অযৌক্তিক’।

এই শাস্তির খাঁড়ায় পড়ে গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে সেই ম্যাচে অর্জিত ১৯ পয়েন্ট পুরোপুরি হারিয়েছে লেস্টারশায়ার। এর সঙ্গে অতিরিক্ত আট পয়েন্ট কেটে নেওয়া এবং ৫ হাজার পাউন্ড অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে।