সৌদি ও হুতি পাল্টাপাল্টি হামলায় ৩ শিশুসহ নিহত ৫

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিনজনই শিশু। সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়েফ গভর্নরেটে একটি হুতি ড্রোন প্রতিহত করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন নিহত ও দুজন আহত হন। নিহত ব্যক্তি সৌদি আরবে বসবাসকারী একজন ইয়েমেনি নাগরিক। চলতি মাসে হুতিদের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর সৌদি ভূখণ্ডে এটিই প্রথম মৃত্যুর খবর। অন্যদিকে ইয়েমেনে হুতিরা দাবি করেছে, সৌদি যুদ্ধবিমান তাইজ প্রদেশের তিনটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালিয়েছে।

হুতি-সমর্থিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, তাইজে একজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং আবস শহরে আরেকজন আহত হয়েছেন। পরে হুতি-সমর্থিত গণমাধ্যম দাবি করে, সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর হামলায় তিন শিশু নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই মক্কাকে ঘিরে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে তীব্র বাগ্যুদ্ধ চলছে। রিয়াদ জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া একটি ড্রোন মক্কার দিকে যাচ্ছিল এবং সেটি আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই প্রতিহত করা হয়। তবে হুতিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইয়েমেনের দুই প্রদেশে ইরান সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর সঙ্গে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী ও সৌদি বিমান বাহিনীর সংঘাতে অন্তত ৬৩ জন নিহত হয়েছে। ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইয়েমেনের দুই দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ২৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন। আর হুতি বাহিনীর সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চলমান এই সংঘাতে ৪০ জন হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

এদিকে, সৌদি আরবের কাছে প্রায় ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাব কংগ্রেসে পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এক বিবৃতিতে গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ‘প্রস্তাবিত এই বিক্রয় চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির শক্তি হিসেবে কাজ করা ন্যাটোর সদস্য নয় এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি মিত্র দেশের নিরাপত্তা জোরদার হবে।’ ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি নীতির সঙ্গে সংগতি রেখেই এই যুদ্ধবিমানগুলো বিক্রি করা হচ্ছে যাতে আঞ্চলিক সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় ইসরায়েল সবসময় সামরিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে। এই বিক্রির ফলে ‘অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যে কোনো পরিবর্তন আসবে না’ বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।

সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মূল কেন্দ্র মারিব শহরে হুতিরা সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ ফাইটার জেট ভূপাতিত করার একদিন পরই এই ঘোষণা এলো। হুতিরা দাবি করেছে যে তারা একটি ‘স্থানীয়ভাবে তৈরি’ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল দিয়ে বিমানটি ভূপাতিত করেছে। যদি এই দাবি সত্যি হয়, তবে তা ওই অঞ্চলে হুতিদের যুদ্ধ করার সক্ষমতায় এক নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে। এর আগে ইয়েমেনে সৌদি আরব তুলনামূলকভাবে আকাশ আধিপত্য বজায় রেখেছিল এবং প্রতিবেশী দেশটিতে বিমান হামলার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করত।

তবে যুদ্ধবিমানগুলোর মাধ্যমে সম্ভাব্য চীনা গুপ্তচরবৃত্তির ঝুঁকি নিয়েও ওয়াশিংটনে উদ্বেগ রয়েছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে যে, রিয়াদের সঙ্গে বেইজিংয়ের অংশীদারত্ব চুক্তির মাধ্যমে চীন এফ-৩৫ প্রযুক্তির নাগাল পেয়ে যেতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। হাউজ ইন্টেলিজেন্স কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য এবং কংগ্রেসম্যান রাজা কৃষ্ণমূর্তি এই যুক্তির ভিত্তিতে অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব গোয়েন্দা সম্প্রদায় যখন সতর্ক করছে যে এই চুক্তি আমাদের সামরিক প্রযুক্তির সবচেয়ে মূল্যবান রতœগুলোকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নাগালের মধ্যে এনে দিতে পারে, তখন এই চুক্তি কোনোভাবেই এগিয়ে নেওয়া উচিত নয়।’