১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ আজ

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৮ এএম

আট দফা দাবি নিয়ে আজ শনিবার ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীসহ সংশ্লিষ্ট জেলা ও মহানগর শাখায় চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। লংমার্চের বহরকে স্বাগত জানাতে ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে নেতাকর্মী-সমর্থকদের অবস্থানের মাধ্যমে ‘মানবপ্রাচীর’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ১ হাজারের বেশি গাড়ি যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। ১১ দলের নেতারা জানান, কর্মসূচিকে জনসম্পৃক্ত করতে রাজধানীসহ সংশ্লিষ্ট জেলা ও মহানগর এলাকায় লিফলেট বিতরণ, মিছিল ও গণসংযোগ করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রস্তুতি সভার পাশাপাশি অনলাইনেও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কর্মসূচির পক্ষে প্রচারে গান ও নাটিকা তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

লংমার্চের প্রস্তুতি দেখতে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পরিদর্শন করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। আজ সকাল ৭টায় এখানে উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হবে। এরপর সকাল ৮টায় রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবে গাড়িবহর। রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ হওয়ার কথা।

গতকাল বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লংমার্চের প্রস্তুতির বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা ও রংপুরের রুটে মোট সাতটি জনসভা ও পাঁচটি পথসভার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আগের ঘোষিত পাঁচ পথসভার পাশাপাশি জনসভার পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে দাবিও বেড়েছে। শুরুতে ছয় দফা দাবি নিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। পরে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধের দাবি যুক্ত হয়ে তা সাত দফায় উন্নীত হয়। সর্বশেষ উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি যুক্ত হওয়ায় দাবি দাঁড়িয়েছে আট দফায়।

এসব দফার মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পালনের আহ্বান জানান। কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ট্রাফিক বিভাগ, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বগুড়া প্রতিনিধি জানান, লংমার্চ সফল করতে বগুড়ায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। শহরতলির মাটিডালিতে পথসভার মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। চারদিকে চলছে মাইকিং। নেতারা আশা করছেন, বগুড়ার পথসভায় স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি লোকসমাগম ঘটবে।

জামায়াতে ইসলামী বগুড়া মহানগর শাখার আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, সাধারণ মানুষ সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। এজন্য তারা বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচিকে সাদরে গ্রহণ করেছে। শনিবারের লংমার্চে স্মরণকালের সেরা উপস্থিতির মাধ্যমে বগুড়ার মানুষ সরকারের প্রতি তাদের অনাস্থার জানান দেবে। তিনি জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লংমার্চের গাড়িবহরকে বগুড়ার প্রবেশমুখ চান্দাইকোনায় স্বাগত জানানো হবে। পথে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ লংমার্চকে বরণ করবে। এরপর বিকেল ৩টায় মাটিডালি বিমান মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।

রংপুর প্রতিনিধি জানান, উত্তরবঙ্গের ২২টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসনে জামায়াতের প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় রংপুর বিভাগীয় লংমার্চ চট্টগ্রামের চেয়ে বড় হবে বলে জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। লংমার্চ উপলক্ষে গতকাল বিকেলে রংপুরে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, এই লংমার্চ কোনো দলের নয়, এটি দেশের জনগণের লংমার্চ। তাই লংমার্চে কোনো বাধা সৃষ্টি করবেন না। আমরা কোনো বাধা মানব না। বাধা উপেক্ষা করেই লংমার্চ হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত