রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে জঙ্গি সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদটিতে গোপন বৈঠক করার সময় তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের তেজগাঁও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ), পুলিশের অপরাধ বিভাগ (সিআইডি) ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা হাজির হন।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে গোপন বৈঠক চলাকালে জঙ্গি সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিটের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসেছেন। তারা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখবেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ৩টার পরপর একদল পুলিশ সদস্য তেজগাঁও কলেজের মসজিদের সামনে গিয়ে হাজির হন। তারা ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান, ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী একদল যুবক বৈঠক করছেন। তাদের পরনে পাঞ্জাবি ও টুপি। এ সময় পুলিশ দেখে তারা হতভম্ব হয়ে পড়েন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কীসের বৈঠক চলছে তা জানতে চান। এ সময় বৈঠকে অংশগ্রহণকারী যুবকরা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন। পুলিশ তাদের পরিচয় জানতে চাইলে অধিকাংশই শিক্ষার্থী বলে জানায়। এ সময় বেশ কয়েকজনের ব্যাগ চেক করেন পুলিশ সদস্যরা। সবাইকে দাঁড় করানো হয়। পরে তাদের সেখান থেকে তেজগাঁও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানার একটি রুমে আটককৃতদের রাখা হয়। সেখানে হাজির হন পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তারা। তারাও প্রাথমিকভাবে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে ২৩ জনকে সিটিটিসি’র টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর একে একে তাদের গাড়িতে তুলে সিটিটিসি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। গাড়িতে তোলার সময় কেউ ‘ভি’ চিহ্ন দেখান, কেউ মুখ ঢেকে রাখেন।
ডিএমপির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আটকরা আল্লাহর দিন কায়েমের নামে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে বৈঠক করেছেন। তাদের বিষয়ে আগেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল। সেই আলোকে তাদের অনুসরণ করা হয় এবং আটক করা হয়। তিনি বলেন, আটক প্রত্যেকে জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রত্যেককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সিটিটিসি’র এক কর্মকর্তা জানান, আটককৃতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘ইফতেহাদুল আল ইসলাম’-এর সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হবে। কার বিরুদ্ধে কী ধরনের মামলা আছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আজ শনিবার তাদের আদালতে হাজির করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।