প্লাস্টিকের দাপটে কোণঠাসা হাতীবান্ধার বাঁশশিল্প

কুলা, চালুন, ডালি, ডোলা কিংবা খাঁচা এক সময় গ্রামবাংলার গৃহস্থালির অপরিহার্য অনুষঙ্গ ছিল বাঁশের তৈরি এসব পণ্য। সময়ের বিবর্তনে এবং বাজারে প্লাস্টিক সামগ্রীর আগ্রাসনে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় আজ হারিয়ে যেতে বসেছে শতবর্ষের এই ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্প। একদিকে বাঁশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় কাঁচামালের আকাশছোঁয়া দাম, অন্যদিকে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যাপক প্রসারে ক্রেতা সংকট এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কারিগর পরিবারগুলো।

হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না, গড্ডিমারী, বড়খাতা, টংভাঙ্গা ও পারুলিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি পরিবার এখনো বাপ-দাদার এই আদি পেশাটিকে কোনো রকমে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আয়ের পথ সংকুচিত হয়ে আসায় অনেক পরিবার ইতিমধ্যে তাদের পূর্বপুরুষের পেশা ছেড়ে অন্য জীবিকায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন আর যারা টিকে আছেন তারাও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন।

কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বাঁশের তৈরি পণ্যের চেয়ে প্লাস্টিকের পণ্যের চাহিদা অনেক বেশি। দামের ব্যবধান থাকলেও ক্রেতারা আধুনিকতার নামে প্লাস্টিক সামগ্রীকেই বেছে নিচ্ছেন। হতাশা প্রকাশ করে স্থানীয় এক কারিগর আক্ষেপের সুরে বলেন, বাঁশের তৈরি একটি চালুনের দাম যেখানে মাত্র ৬০ টাকা, সেখানে মানুষ প্রায় ১০০ টাকা খরচ করে প্লাস্টিকের তৈরি চালুন কিনছে। বেশি দাম দিয়েও যদি মানুষ প্লাস্টিকের জিনিসই কেনে, তবে তাদের তৈরি এই পরিবেশবান্ধব পণ্য তারা কার কাছে বিক্রি করবেন সেই প্রশ্নই এখন তাড়া করে ফিরছে তাদের।

বাঙালির শেকড়ের সঙ্গে মিশে থাকা এই ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্প কেবল একটি পেশা নয়, বরং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর টিকে থাকার মূল ভিত্তি। পরিবেশবান্ধব ও দেশীয় সংস্কৃতির ধারক এই কুটিরশিল্পকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে হলে কারিগরদের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান, সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা এবং স্থানীয় পণ্যের সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।