ভোজন রসিকের সাফল্যগাথা

আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৮০০ কোটি মানুষের মাঝে প্রবাসী বাঙালিরা সবসময় খুঁজে ফেরেন নিজেদের দেশের সেই চেনা স্বাদ ও সংস্কৃতি। প্রবাসীদের এই আবেগ ও নানাবিধ দেশীয় পণ্যের অপ্রতুলতাকে অনুধাবন করে ঢাকার দক্ষিণখান ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ভোজন রসিক’ শুরু করেছে এক নতুন দিগন্ত। চালের গুঁড়া, দেশি মুড়ির মোয়া, লাল চিড়া, আখের ও খেজুরের গুড়, বিন্নি ধানের চাল কিংবা তেঁতুলের মতো সাধারণ দেশীয় আইটেমগুলো বিদেশে থাকা বাঙালিদের কাছে এখন এক অনাবিল আনন্দের নাম।

একটি মাত্র ছোট মেশিন দিয়ে সূচনা হওয়া এই ৯ বছরের পথচলা সহজ ছিল না। কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট ফাইন্যান্সিয়াল ব্যাকআপ ছাড়া ধাপে ধাপে স্ট্রাগল করে প্রতিটি মেশিন ও সরঞ্জাম ক্রয় করতে হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের পণ্যের মান ধরে রেখেছে। ক্ষতিকারক কোনো প্রিজারভেটিভ ব্যবহার না করেই প্রাকৃতিক উপায়ে প্রক্রিয়া করার কারণে শিপমেন্টের পণ্য চার মাস পরও সতেজ ও গুণগত মান বজায় রাখে। চালের বিভিন্ন ক্যাটাগরি, ড্রাইড ফ্রুটস ও ঐতিহ্যবাহী স্ন্যাকসসহ শুরু থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ১৮০টি আইটেমে উন্নীত হয়েছে তাদের পণ্য তালিকা।

প্রতিষ্ঠানের হেড অব বিজনেস নূর মোহাম্মদ রাসেলের মতে, এই যাত্রার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা, সৃষ্টিসেবা এবং সর্বোপরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

 প্রচলিত ধারার ১৮-২০ হাজার টাকা বেতনের গণ্ডি পেরিয়ে ভোজন রসিক তাদের সেলস টিম ও কর্মীদের কমিশন বেসড স্ট্রাকচারে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ফলে কর্মীদের সেলস পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে একজন সাধারণ নারী সেলসম্যানও মাসে অন এভারেজ ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত উপার্জন করতে পারছেন। কারখানা থেকে শিপমেন্ট পাঠানোর সময় পুরো প্রতিষ্ঠানে যেন উৎসবের আমেজ নেমে আসে। কর্মীদের ওভারটাইম, ভালো খাবার, শিপমেন্ট শেষে সাকসেস পার্টি এবং বোনাস উপহার দিয়ে উদযাপন করা হয় এই প্রতিটি অর্জন।

বর্তমানে ২টি দেশে নিয়মিত পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই কানাডা ও ইতালিসহ ৮ থেকে ১০টি দেশে বাণিজ্য প্রসারিত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। বায়ারদের সরাসরি ভিজিট এবং ওয়েবসাইট ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিশ^ব্যাপী বাল্ক অর্ডার নেওয়ার সুযোগ চালু হওয়ায় ভোজন রসিকের স্বপ্ন এখন আরও বড়। প্রাথমিক পর্যায়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করার দৃঢ় লক্ষ্য নিয়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগ বুকে জড়িয়ে ভোজন রসিক প্রমাণ করছে যে, পৃথিবীটা আসলে সাহসী মানুষদের জন্যই।