প্রথমবারের মতো জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা রেকর্ড এক লাখ ছাড়িয়েছে। দীর্ঘায়ুর জন্য পরিচিত এই দেশটিতে বর্তমানে ১,০৭,৬৭৭ জন মানুষের বয়স কমপক্ষে ১০০ বছর। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সবচেয়ে বয়স্ক নারী কিয়োটোর ফুয়ো কিশিমোতো (১১৪) এবং সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ কুমামোতোতোর হিকারু কাতো (১১২)। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।
শতবর্ষী মানুষের মধ্যে ৮৮ শতাংশই নারী। এর কারণ হিসেবে সাধারণত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পুরুষদের মৃত্যু অথবা অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রাকে দায়ী করা হয়।
জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনিচিরো উয়েনো মঙ্গলবার এই খবরকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অনেক মানুষ দীর্ঘ, সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপন করছেন জেনে আমি খুবই আনন্দিত। তিনি বয়স্কদের সহায়তায় একটি শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন।
জাপানে কেউ ১০০ বছরে পা দিলে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অভিনন্দনপত্র এবং একটি স্মারক রুপার সেক কাপ দেওয়া হয়। আগে এই কাপগুলো খাঁটি রুপার তৈরি হতো, কিন্তু ২০১৬ সালে সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়ায় সেগুলো রুপার প্রলেপযুক্ত সংস্করণে নামিয়ে আনা হয়।
স্বাস্থ্য ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৩ সালে যখন শতবর্ষী জরিপ শুরু হয়, তখন জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষ ছিলেন মাত্র ১৫৩ জন।
বেশিরভাগ বিজ্ঞানী জাপানিদের দীর্ঘায়ুর পেছনে সুস্থ খাদ্যাভ্যাস, সক্রিয় জীবনযাত্রা এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে দায়ী করেন।
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত ওকিনাওয়ায়-যেখানে ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শতবর্ষী মানুষের ঘনত্ব ছিল-সেখানকার মানুষের দীর্ঘায়ুর পেছনে আংশিকভাবে তাদের ঐতিহ্যবাহী জাপানি খাদ্যাভ্যাসকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়, দেশটির প্রধান খাবার তালিকায় রয়েছে মাছ, শাকসবজি ও ভাত; যা বহু পশ্চিমা খাবারের তুলনায় কম স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত কিন্তু পুষ্টিতে ভরপুর।
বিশেষজ্ঞরা ‘মেইওয়াকু’ নামে একটি ধারণার কথাও উল্লেখ করেন, যা সমাজের বোঝা হওয়ার ভয়-এই ভয় জাপানিদের ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয় এবং বিশেষজ্ঞদের মতে এটি ব্যাখ্যা করে কেন তারা দেরিতে অবসর নেন।
নারীদের গড় আয়ু ৮৭.২ বছর এবং পুরুষদের ৮১.৭ বছর-যা ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের সর্বোচ্চগুলোর মধ্যে-সত্ত্বেও জাপানের জনসংখ্যা সংকুচিত হচ্ছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জন্মহারের এই নাটকীয় পতনকে ‘নীরব জরুরি অবস্থা’ বলে অভিহিত করেছেন।
দেশটিতে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শিশুদের ডায়াপারের চেয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপারের বিক্রি বেশি। জাপানের মোট উর্বরতার হার ২০২৫ সালে রেকর্ড সর্বনিম্ন ১.১৪-এ নেমে এসেছে, যা বর্তমান জনসংখ্যা টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় ২.১-এর অনেক নিচে।
সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, জাপানের জনসংখ্যা ২০০৮ সালে সর্বোচ্চ ১২.৮ কোটিতে পৌঁছেছিল এবং ২০৭০ সালের মধ্যে ৮.৭ কোটিতে নেমে আসবে। সরকারি গবেষণায় দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী অবিবাহিতদের মধ্যে ২০ শতাংশেরও বেশি কখনো বিয়ে করার ইচ্ছা নেই এবং প্রায় অর্ধেক বলেছেন তারা বিয়েতে কোনো লাভ দেখেন না।