কী থাকছে জামালপুরের ‘ইত্যাদি’তে

আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর বিটিভিতে প্রচারিত হবে দর্শকপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব। এরইমধ্যে অনুষ্ঠানটির দৃশ্যধারণ করা হলো গারো পাহাড়ের পাদদেশ, সবুজ বনানী আর নৈসর্গিক লেক-প্রকৃতির এমন মনোরম পরিবেশে। নকশিকাঁথার জন্য পরিচিত সীমান্তবর্তী জেলা জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার লাউচাপড়া অবসর বিনোদনকেন্দ্রে ধারণ করা হয়েছে এবারের বিশেষ পর্ব। লাউচাপড়া অবসর বিনোদনকেন্দ্রের উন্মুক্ত চত্বরে গারো পাহাড়ের পাদদেশে সবুজ বনানী ও নৈসর্গিক লেকঘেরা পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্মাণ করা হয় ‘ইত্যাদি’র মঞ্চ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে এবারের আয়োজনেও ছিল ভিন্ন আবহ। 

‘ইত্যাদি’র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফাগুন অডিও ভিশনের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছ, অনুষ্ঠানটি ঘিরে পুরো জামালপুরজুড়েই তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ। বরাবরের মতো স্থানীয় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দর্শকদের মধ্যে বিতরণ করা হয় অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র। নির্ধারিত সময়ের আগেই দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় পুরো প্রাঙ্গণ। সাধারণত রাতের আলোকিত মঞ্চে ‘ইত্যাদি’র ধারণ করা হলেও লাউচাপড়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরতে এবার দিনের আলোতেই শুরু হয় ধারণ। বকশীগঞ্জ ছাড়াও জামালপুরের বিভিন্ন উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে নানা বয়সী হাজারো মানুষ অনুষ্ঠানটি দেখতে ছুটে আসেন। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি কিংবা ভ্যাপসা গরম-কোনোটিই দর্শকদের দমাতে পারেনি। ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দর্শক উপস্থিত হওয়ায় কেউ গাছে উঠে, আবার কেউ পাহাড়ের চূড়ায় বসে অনুষ্ঠান ধারণ উপভোগ করেন। পুরো আয়োজনজুড়েই ছিল দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও করতালি।

এবারের পর্বে থাকছে দুটি ভিন্ন ধরনের গান। এর একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন শ্রোতাপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী পান্থ কানাই ও তসিবা বেগম। টেলিভিশন পর্দায় যাদের প্রথম আবির্ভাব ঘটেছিল ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমেই। লিটন অধিকারী রিন্টুর কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সুমন কল্যাণ। বরাবরের মতো এবারও থাকছে জেলা পরিচিতিমূলক নৃত্যগীত। দ্বৈতকণ্ঠে গানটি গেয়েছেন জামালপুরের সন্তান মিজান মাহমুদ রাজীব ও সিঁথি সাহা। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। এস কে জাহিদের নৃত্য পরিচালনায় স্থানীয় বাঙালি ও গারো নৃত্যের পরিবেশনা গানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। উপস্থিত দর্শকরাও করতালি ও উচ্ছ্বাসে গান দুটি উপভোগ করেন। ‘দর্শকপর্বেও এবার উঠে এসেছে জামালপুর। প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত করা হয় চারজনকে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে তারা জামালপুরের চারজন স্মরণীয়-বরণীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের কালজয়ী চারটি গানের অংশবিশেষ পরিবেশন করেন। জামালপুরকে ঘিরে এবারের পর্বে থাকছে বেশ কিছু তথ্যবহুল ও হৃদয়স্পর্শী প্রতিবেদন। জেলার অর্থনীতি ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক নকশিকাঁথা এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘মিল্লি বা পিঠালি’ নিয়ে রয়েছে বিশেষ প্রতিবেদন। পাশাপাশি জামালপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ নিয়েও থাকছে তথ্যভিত্তিক আয়োজন। 

দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম ‘তুলসীপুর ঘোড়ার হাট’ নিয়েও থাকছে ভিন্নধর্মী প্রতিবেদন। নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত পরিবার এবং অভাবের কারণে বাল্যবিবাহের শিকার পরিবারগুলোর জীবন নিয়েও তুলে ধরা হয়েছে মানবিক গল্প। এ ছাড়া জামালপুরে জন্ম নেওয়া চারজন কালজয়ী গুণী ব্যক্তিত্বের অবদানও শ্রদ্ধার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজেদের পরিশ্রমে স্বাবলম্বী হওয়া ফেরদৌস হাসান বাপ্পী ও ওসনাই খাতুন দম্পতির অদম্য জীবনসংগ্রামের গল্প নিয়েও থাকছে একটি অনুপ্রেরণাদায়ক মানবিক প্রতিবেদন। বিদেশি প্রতিবেদন পর্বে থাকছে চীনের নয়নাভিরাম শহর ‘সুঝৌ’। প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা শহরটির ওপর থাকছে বিশেষ চিত্রায়ন। এ ছাড়া থাকছে কাশেম টিভির রিপোর্টার ও নাতির প্রাণবন্ত আলাপ। নিয়মিত চিঠিপত্র পর্বের পাশাপাশি সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক নানা প্রসঙ্গ নিয়ে থাকছে তীক্ষ্ণ ও তীর্যক বেশ কিছু নাট্যাংশ।

এবারের ‘ইত্যাদি’তে অভিনয় করেছেন সোলায়মান খোকা, মীর নাসিমুল ইসলাম সেলিম, সুভাশিষ ভৌমিক, আবদুল্লাহ রানা, আব্দুল আজিজ, জিল্লুর রহমান, আমিন আজাদ, আনন্দ খালেদ, মুকিত জাকারিয়া, সুমন পাটোয়ারী, সাইদুর রহমান পাভেল, আশরাফুল আলম সোহাগ, এমএনইউ রাজু, আনোয়ার শাহী, তারিক স্বপন, মুকুল সিরাজ, সুজাত শিমুল, আবু হেনা রনি, সুর্বনা মজুমদার, সাবরিনা নিসা, নূরে আলম নয়ন, সাজ্জাদ সাজু, রাজিব সালেহীন, নিপু, মিরাজ, নজরুল ইসলাম, আনোয়ারুল আলম সজল, বেলাল আহমেদ মুরাদসহ আরও অনেকে। ইত্যাদি গ্রন্থনা, পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। স্পন্সর করেছে কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।