বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জনসংখ্যা সেলের আওতাধীন অন্যতম সংবেদনশীল প্রকল্প ‘মা ও শিশু: বহিরাঙ্গন’। গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ের মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং অধিকার রক্ষায় মাঠ পর্যায়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ও তথ্যচিত্র নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে এই বিশেষ ‘বহিরাঙ্গন’ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
তবে অতি সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় এই প্রকল্পে একটি অসাধু কর্মকর্তা চক্রের সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী সিন্ডিকেটের ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় জীবনের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র হলো মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও অধিকার রক্ষা। গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যবার্তা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) বছরের পর বছর ধরে ‘মা ও শিশু: বহিরাঙ্গন’ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সচেতনতামূলক নাটক, বিজ্ঞাপন (টিভিসি), জিঙ্গেল ও মাঠ পর্যায়ের প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করে আসছে। কিন্তু এই মহৎ উদ্যোগের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার অধ্যায়।
অভিযোগ উঠেছে, একটি অসাধু চক্র এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পটিকে নিজেদের অবৈধ উপার্জনের নিরাপদ চারণভূমি বানিয়ে তুলেছে। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, ‘মা ও শিশু: বহিরাঙ্গন’ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে সরাসরি সাধারণ মা ও শিশুদের সম্পৃক্ত করে মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চিত্র ও সমস্যাগুলো ক্যামেরাবন্দি করা। কিন্তু জানা গেছে, মাঠ পর্যায়ে যাওয়ার খরচ বাঁচিয়ে এই সিন্ডিকেটের আশীর্বাদপুষ্ট নির্মাতারা ঢাকার স্টুডিও বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের ভেতরেই নামমাত্র সেট তৈরি করে কাজ শেষ করেছেন।
নথিপত্রে দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাওয়ার ভুয়া যাতায়াত ভাতা (টিএ/ডিএ) এবং কাল্পনিক লজিস্টিক খরচ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ‘মা ও শিশু: বহিরাঙ্গন’ প্রকল্পের আওতায় সচেতনতামূলক প্রচার সামগ্রী নির্মাণের জন্য প্রতি বছর যে বিপুল সরকারি বরাদ্দ আসে, তা সুকৌশলে নির্দিষ্ট কিছু মানুষ কাজ করেন। যোগ্য, সৃজনশীল ও সাধারণ স্বাধীন নির্মাতারা প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডারে অংশ নিতে চাইলেও এই চক্রের নানামুখী সিন্ডিকেটিং ও বাধায় তারা কাজ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ।
বিটিভির ভেতরের সূত্র মারফত জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয় এবং প্রভাব খাটিয়ে ‘মা ও শিশু’ প্রজেক্টের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো বাগিয়ে নেন নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রজেক্টের বাজেট বরাদ্দ, আউটসোর্সিং নিয়োগ এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান নির্মাণের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে এই চক্রটি। পটপরিবর্তনের পরেও তারা বহাল তবিয়তে থাকায় প্রজেক্টের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। প্রজেক্টের পিডি হচ্ছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রেস) রিয়াসাত আল ওয়াসিফ।
মাঝে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বদলী হলেও ক্ষমতার দাপটে ফের একই জায়গায় ফেতর আসেন। তার অনিয়মের সহযোগী হচ্ছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) অনুষ্ঠান নির্বাহী মাহবুবা ফেরদৌস। যৌথভাবে তারা সরকারি টাকা লুটপাট করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংগীত অনুষ্ঠানে শিল্পী চূড়ান্ত থেকে শুরু করে উপস্থাপিকা চূড়ান্তসহ নানা ভাবে সরকারের টাকা নিজেদের পকেটে নিচ্ছেন বলে বিটিভিতে চর্চা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বিটিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী শাহরিয়ার রাফাত গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানে কারা কি যোগ্যতায় ডাক পায় ঠিক জানি না। আমি কিংবা আমার পরিচিত কেউ কখনো ডাক পায়নি। আমরা যোগাযোগ করলে বলে মন্ত্রণালয় থেকে বলে দেওয়া হয়েছে কাদের নিবে। নামেমাত্র কাউকে অনুষ্ঠানে নিয়ে প্রচার করা হয়। মূলধারার শিল্পীরা সেভাবে ডাক পায় না।’ দেশের সুপরিচিত ও শ্রোতানন্দিত সুফি, ফোক ও আধুনিক ঘরানার কণ্ঠশিল্পী শাহনাজ রহমান স্বীকৃতি বলেন, ‘কখনোই এই অনুষ্ঠানে ডাক পাইনি। কাদের নেওয়া হয় ঠিক জানি না। পরিচিত শিল্পীদের ডাকে না। তাদের পছন্দ মতো শিল্পীদের কাজে নেওয়া হয়। প্রযোজকের সিন্ডিকেটে যারা আছে তাদেরই সবসময় ডাকা হয়। বরাবরই আমাদের মতো শিল্পীরা বঞ্চিত থাকি।’
কণ্ঠশিল্পী পিয়াল হাসান বলেন, ‘এই মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে বছরে কোটি টাকা হরিলুট হয়। এর নেপথ্যে রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রেস) রিয়াসাত আল ওয়াসিফ ও বিটিভির অনুষ্ঠান নির্বাহী মাহবুবা ফেরদৌস। এটি দেখার কেউ নেই। নিজেদের সিন্ডিকেটের লোকজনকেই কাজ দেওয়া হয়। অথচ বিটিভির তালিকাভুক্ত আমাদের মতো অসংখ্য শিল্পী রয়েছেন যারা কখনোই এই অনুষ্ঠানে ডাক পায় না। আমাদের ডাকা হলে ভাগে কম হয়ে যাবে। যে যার মতো সরকারি টাকা আত্মসাৎ করছে। তথ্যমন্ত্রী ও সরকারের এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) অনুষ্ঠান নির্বাহী মাহবুবা ফেরদৌস বলেন, ‘প্রজেক্টটি বিটিভির না, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করি। এর বাইরে আমাদের কিছু করার সুযোগ নেই। যেহেতু সরকারি চাকরি করি সেক্ষেত্রে আমাদের নির্দেশনা মেনেই কাজ করতে হয়। কারো যদি কিছু অভিযোগ কিংবা জানার থাকে সেটা মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করে দেখতে পারে।’
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রেস) রিয়াসাত আল ওয়াসিফ-এর এ অভিযোগ নিয়ে যোগাযোগ করা হলেও ব্যস্ততা দেখিয়ে পরে ফোন করতে বললেও একাধিকবার ফোন করে আর সাড়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, ‘মা ও শিশু’ সুরক্ষায় যেসব সচেতনতামূলক ডকুড্রামা বা ফিলার প্রচারের কথা বলা হয়, তার বেশিরভাগেরই নির্মাণ মান অত্যন্ত নিম্নমানের। অনেক ক্ষেত্রে পূর্বের তৈরি করা পুরনো কন্টেন্টকে সামান্য এডিট বা ‘কাট-পেস্ট’ করে নতুন অর্থবছর বা নতুন বিলের আওতায় দেখিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত একাধিক ভুক্তভোগী কর্মকর্তা জানান, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা এই চক্রটি এখনো বিটিভির ভেতর নিজস্ব সিন্ডিকেট বজায় রেখেছে। তারা সাবেক মন্ত্রী ও এমপিদের গুণকীর্তন করে তৈরি করা বিভিন্ন কনটেন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো তারা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে নানা কৌশলে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিটিভির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, যারা বিগত ১৬ বছর ধরে যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কোণঠাসা ছিলেন, তারা এখনো বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে, ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো একই পদে থেকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।
ফের স্থগিত অনুপম রায়ের কনসার্ট, বড় লোকসানে আয়োজকপক্ষ
হজের ব্যয় কমবে অন্তত ৪০ হাজার টাকা : বিমান প্রতিমন্ত্রী
জুলাই শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না: মির্জা ফখরুল
লতিফ সিদ্দিকীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে আজ
‘সড়ক নিরাপত্তা আইন’ প্রতিশ্রুতিতে সরকারকে অভিনন্দন
গাড়িতে নয়, বাবার পুরনো সাইকেলে চড়ে বিয়ের আসরে গেলেন কনে
'অপরাজেয়' আজিঙ্কা রাহানে ক্রিকেটকে গুডবাই বললেন
বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে রাজধানীর কর্মজীবী মানুষ
সময় আল্লাহর দেওয়া আমানত
এবছর সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র টয় স্টোরি ৫
দাবানল নেভাতে গিয়ে ৩ দমকলকর্মীর মৃত্যু