সময়ের সঠিক ব্যবহার জরুরি

আমরা অফুরান সময় নিয়ে পৃথিবীতে আসিনি। আমাদের সময় খুবই স্বল্প। আর এই স্বল্প সময়ের সঠিক ব্যবহার করা জরুরি। আমাদের খুব সচেতনভাবে খেয়াল রাখতে হবে, এ সময় থেকে এক ঘণ্টা বা এক মিনিট চলে যাওয়া মানে প্রকৃতপক্ষে জীবনের একটা মূল্যবান অংশ কমে যাওয়া। এ কারণে সময়ের যথাযথ ব্যবহার অপরিহার্য। আর মানুষ তার দুনিয়ার জীবন কীভাবে অতিবাহিত করেছে আখেরাতে সেই হিসাবও দিতে হবে।

সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো এক ব্যক্তিকে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপদেশ দেওয়ার সময় বললেন, তুমি পাঁচটি বিষয়ের আগে পাঁচটি বিষয়কে গুরুত্ব দাও। এক. বার্ধক্য আসার আগে যৌবনকে গুরুত্ব দাও। দুই. অসুস্থতার আগে সুস্থতাকে গুরুত্ব দাও। তিন. দারিদ্র্য আসার আগে সচ্ছলতাকে গুরুত্ব দাও। চার. ব্যস্ততার আগে অবসর সময়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করো। পাঁচ. মৃত্যু আসার আগে জীবনের গুরুত্ব দাও।’ (মুসতাদরাকে হাকেম)

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে অনেকবার সময়ের শপথ করেছেন। একজন মুসলমান যাতে সময়ের মূল্য যথাযথভাবে বুঝতে পারে এ জন্য কোরআনে একটি সুরা নাজিল করা হয়েছে ‘আসর’ বা সময় নামে। ওই সুরার শুরুতে মহান আল্লাহ সময়ের কসম খেয়েছেন। এর দ্বারা সময়ের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়।

মানুষ হিসেবে আমাদের মধ্যে কমবেশি সময় নষ্ট করার প্রবণতা রয়েছে। আমরা অনেকেই সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার ও সুযোগকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছি। দিনরাত সব মানুষের ক্ষেত্রে সমান। পার্থক্য শুধু এখানে, কারও সময়ের মধ্যে বরকত আছে। কারও সময়ের মধ্যে বরকত নেই। এই যে আমরা বলি, ‘সময় কোন দিক দিয়ে যায়, টের পাই না’, এটা হলো সময়ের বরকতহীনতার কারণে। সময়ের বরকত নষ্ট করে এমন কাজ থেকে বেঁচে থাকতে হবে।