খেলাধুলা শরীর ও মন প্রফুল্ল রাখে

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৭ এএম

শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য প্রয়োজন বিশ্রাম ও আনন্দ। খেলাধুলা মানুষের জীবনে সেই আনন্দের একটি স্বাভাবিক অনুষঙ্গ। এটি শরীরকে সচল রাখে এবং মনকে প্রফুল্ল করে। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবার জন্যই খেলাধুলার রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। ইসলাম মানুষের স্বাভাবিক চাহিদাকে অস্বীকার করে না। বরং মানুষের শরীর, মন, আত্মা ও সামাজিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয়। তাই ইসলামে খেলাধুলাকে নিছক সময় কাটানোর বিষয় হিসেবে দেখা হয় না। এর মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা অর্জন, মানসিক প্রশান্তি লাভ এবং কল্যাণকর গুণাবলি বিকাশের সুযোগ রয়েছে। তবে খেলাধুলা হতে হবে ইসলামের নীতিমালা ও নৈতিক শিক্ষার আলোকে। এমন কোনো খেলা বা বিনোদন গ্রহণযোগ্য নয়, যা মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ করে, ফরজ দায়িত্ব পালনে বাধা দেয় কিংবা অন্যের অধিকার নষ্ট করে।

ইসলামের মৌলিক নীতি হলো, মানুষের জন্য উপকারী ও বৈধ বিষয়গুলো গ্রহণ করা এবং ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকা। এ নীতির আলোকে শরীরচর্চা ও খেলাধুলা বৈধ। বরং সুস্থ থাকার নিয়তে খেলাধুলা করলে তা নেকির মাধ্যমও হতে পারে। কারণ সুস্থ শরীর ইবাদত, পারিবারিক দায়িত্ব ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য সহায়ক।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা নিজ হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না।’ (সুরা বাকারা ১৯৫) এ আয়াতের ব্যাপক শিক্ষা থেকে বোঝা যায়, নিজের জীবন ও শরীরের নিরাপত্তা রক্ষা করা জরুরি। তাই খেলাধুলার ক্ষেত্রে এমন কিছু করা উচিত নয়, যাতে অযথা নিজের বা অন্যের জীবন বিপন্ন হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম এবং আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। তবে উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম) এখানে শক্তির অর্থ শুধু শারীরিক শক্তি নয়, বরং ইমান, মানসিক দৃঢ়তা ও সামর্থ্যও এর অন্তর্ভুক্ত। তবে শারীরিক সক্ষমতা অর্জনও কল্যাণকর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেও খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, এক সফরে তিনি নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছিলেন। একবার তিনি নবীজিকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যান। পরে আরেকবার প্রতিযোগিতায় নবীজি (সা.) তাকে ছাড়িয়ে যান এবং বলেন, ‘এবার সমান হলো।’ (সুনানে আবু দাউদ)

এ ঘটনা থেকে বোঝা যায়, সুস্থ বিনোদন ও শরীরচর্চার জন্য প্রতিযোগিতা করা ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থী নয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আনন্দময় সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং পরস্পরের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোর ক্ষেত্রেও এ ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।

তীরন্দাজির প্রতিও নবীজি (সা.) উৎসাহ দিয়েছেন। একবার তিনি আসলাম গোত্রের কয়েকজনকে তীর নিক্ষেপের অনুশীলন করতে দেখে বলেন, ‘হে ইসমাইলের বংশধর, তোমরা তীর নিক্ষেপ করো।’ (সহিহ বুখারি) তীরন্দাজির মতো দক্ষতাভিত্তিক অনুশীলন শারীরিক সক্ষমতা ও মনোযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি আত্মরক্ষার প্রস্তুতিতেও সহায়ক ছিল।

লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও ইসলামি গবেষক

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত