শরীরের ভেতরে কী ঘটছে, বাইরে থেকে না কেটেই তার ছবি দেখার সুযোগ করে দিয়েছে আলট্রাসাউন্ড। উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ছবি তৈরি করা হয় এই পরীক্ষায়। পেটে ব্যথা, ফোলা, সংক্রমণ, লিভার, পিত্তথলি, কিডনি, অগ্ন্যাশয়, থাইরয়েডসহ বিভিন্ন অঙ্গের সমস্যা শনাক্ত করতে আলট্রাসাউন্ড করা হয়। গর্ভাবস্থায় গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি ও অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করা যায়। ডপলার আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে রক্তনালিতে রক্তপ্রবাহও দেখা সম্ভব।
চিকিৎসায় আলট্রাসাউন্ড ব্যবহারের ইতিহাস বেশ পুরনো। ১৯৪২ সালে অস্ট্রিয়ান চিকিৎসক কার্ল থিওডোর ডুসিক মস্তিষ্ক পরীক্ষা ও টিউমার শনাক্তের উদ্দেশ্যে আলট্রাসাউন্ড ব্যবহারের প্রথম দিকের গবেষণা প্রকাশ করেন। পরে ১৯৫০-এর দশকে স্কটিশ চিকিৎসক ইয়ান ডোনাল্ড ও প্রকৌশলী টম ব্রাউন প্রযুক্তিটির ব্যবহারিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৮ সালে ডোনাল্ড ও তার সহকর্মীরা পেটের বিভিন্ন অস্বাভাবিকতা শনাক্তে আলট্রাসাউন্ড ব্যবহারের উল্লেখযোগ্য গবেষণা প্রকাশ করেন। আলট্রাসাউন্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এতে এক্স-রের মতো আয়নাইজিং রেডিয়েশন ব্যবহার হয় না। পরীক্ষা সাধারণত ব্যথাহীন, শরীরে কাটাছেঁড়া বা ইনজেকশনের প্রয়োজন হয় না এবং তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য। এটি চলমান অঙ্গ ও রক্তপ্রবাহও তাৎক্ষণিকভাবে দেখাতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী বায়োপসি বা অন্য কিছু চিকিৎসা-প্রক্রিয়ায় পথনির্দেশ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।