পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন

সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা

প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার মোট বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা নির্ধারণ করে সরকারি চাকুরেদের বর্ধিত বেতন-ভাতা, পেনশন ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদির বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং তা কার্যকর ও পরিশোধের তারিখ উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ শিরোনামে ওই প্রজ্ঞাপনটি গত বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত করা হলেও তা গতকাল শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়, আইবিএএস ও হিসাব মহানিয়ন্ত্রক দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। নতুন বেতন-ভাতা, পেনশন ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বাস্তবায়ন করার কথা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ রহিত করা হয়।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন। নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়।

গতকাল প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন হবে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা (নির্ধারিত) এবং সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা (নির্ধারিত)। আগে থেকেই চলে আসা ২০টি গ্রেডের শীর্ষ পদ সচিবদের (গ্রেড-১) বেতন বেড়েছে শতভাগ। এতে সচিবদের নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।

বর্ধিত বেতন পরিশোধ : প্রজ্ঞাপনের অনুচ্ছেদ ৫ এবং অনুচ্ছেদ ৯ অনুযায়ী বর্ধিত বেতনের মোট অঙ্কের শতকরা ৪০ ভাগ ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বের জন্য এবং শতকরা ৫০ ভাগ ১০ম-২০তম গ্রেডের জন্য ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রদান করা হবে।

আদেশে বলা হয়, ১ জুলাই ২০২৭ তারিখ থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট)-সহ মূল বেতন শতভাগ প্রদান করা হবে। পরে সব কর্মচারীর বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির তারিখ হবে প্রতি অর্থবছর শুরুর প্রথম দিবস।

বর্ধিত পেনশন : একই সঙ্গে পেনশনভোগীরাও সমহারে বর্ধিত ভাতা পাবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ তারিখে মূল পেনশনভোগীর নিট পেনশনবৃদ্ধির পর মোট অঙ্কের শতকরা ৪০ ভাগ বিদ্যমান নিট পেনশন স্ল্যাব ২০০০১ টাকা ও তদূর্ধ্বের ক্ষেত্রে এবং শতকরা ৫০ ভাগ বিদ্যমান নিট পেনশন সø্যাব ১ টাকা (সর্বনিম্ন)  থেকে ২০০০০ টাকার ক্ষেত্রে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ এর মধ্যে পেয়ে যাবেন।

জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬ কার্যকরের তারিখ থেকে বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে এবং ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে নতুন আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত আহরিত বিশেষ সুবিধা (দফা-ঘ) এবং (দফা-জ) এর অধীন প্রাপ্য বকেয়ার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

চাকরি (বেতন-ভাতা) আদেশ ২০২৬ আওতায় পড়বেন না যারা : এই আদেশের আওতায় পড়বেন না (ক) বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ; (খ) যেসব বেসামরিক কর্মচারীকে প্রতিরক্ষা প্রাক্কলন থেকে বেতন প্রদান করা হয় তারা ছাড়া প্রতিরক্ষা সার্ভিসসমূহে নিয়োজিত কর্মচারীরা; (গ) পুলিশ বাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এ নিয়োজিত কর্মচারীরা; (ঘ) পণ্য উৎপাদনশীল রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান শ্রমিক (চাকরির শর্তাবলি) আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫০ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (ঘ)-তে সংজ্ঞায়িত শ্রমিক; (ঙ) শিক্ষানবিশ অথবা প্রশিক্ষণার্থী অথবা আউটসোর্সিং-এর মাধ্যমে নিযুক্ত ব্যক্তিরা; (চ) দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা, ২০২৫ এর আওতায় নিয়োজিত শ্রমিকরা; এবং (ছ) চুক্তি অথবা খ-কালীন ভিত্তিতে নিযুক্ত ব্যক্তিরা।

এছাড়া, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে কর্মচারীর অবসর-উত্তর ছুটি শেষ হবে অর্থাৎ যিনি ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে অবসরে যাবেন, তিনি ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে কার্যকর জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের সুবিধা প্রাপ্য হবেন না।

উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্যতা : প্রথমত. কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ৮ (আট) বছরপূর্তিতে এবং চাকরি সন্তোষজনক হওয়া সাপেক্ষে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৯ম বছরে তার পদের মূল স্কেলের পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন প্রাপ্য হবেন, কিন্তু এরূপ উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তি পদোন্নতি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

তবে শর্ত থাকে যে, যে সব স্থায়ী কর্মচারীর ক্ষেত্রে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের আগে চাকরির ৮ (আট) বছর পূর্তি হয়েছে কিন্তু ১০ (দশ) বছর পূর্তি হয়নি, সেসব স্থায়ী কর্মচারী ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হবেন।

দ্বিতীয়ত, কোনো স্থায়ী কর্মচারী উপ-অনুচ্ছেদ (১) অনুযায়ী তার চাকরির ৮ (আট) বছরপূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডে বেতনপ্রাপ্তির পরও পদোন্নতি ছাড়া একই পদে পরবর্তী ৬ (ছয়) বছর কর্মরত থাকলে প্রথম উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৬ষ্ঠ বছরপূর্তিতে এবং চাকরি সন্তোষজনক হওয়া সাপেক্ষে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৭ম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন প্রাপ্য হবেন, কিন্তু এরূপ উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তি পদোন্নতি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

উল্লিখিত আর্থিক সুবিধা বেতন স্কেলের ৪র্থ গ্রেড পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে এবং ৪র্থ গ্রেড বা তদূর্ধ্ব গ্রেডের কোনো কর্মচারী এই সুবিধা গ্রহণপূর্বক ৩য় গ্রেড বা তদূর্ধ্ব গ্রেডে বেতন প্রাপ্য হবেন না।

এ ধরনের আর্থিক সুবিধা একই পদে দুবারের অধিক প্রাপ্য হবেন না, অধিকন্তু, কোনো কর্মচারী আগের বেতন স্কেলসমূহের আওতায় একই পদে দুই বা ততধিক সিলেকশন গ্রেড বা টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড (যে নামেই অভিহিত হোক না কেন) পেয়ে থাকলে উক্ত পদে থাকা অবস্থায় তিনি জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬ অনুসারে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হবেন না।

তৃতীয়ত, যেসব পদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্র্তৃক ব্লকড পদ হিসেবে ঘোষিত এবং যে সব পদে পদোন্নতির কোনো বিধান নেই, সেসব পদে কর্মরত কর্মচারীরা উপ-অনুচ্ছেদ (১), (২) ও (৫) অনুযায়ী দুটি উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির পর সন্তোষজনক চাকরির শর্তে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৮ (আট) বছরপূর্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৯ম বছরে পরবর্তী (তৃতীয়) উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হবেন, এবং এই সুবিধা ঐ একই পদে সমগ্র চাকরি জীবনে সর্বমোট তিনবারের বেশি প্রাপ্য হবেন না, এবং এরূপ উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তি পদোন্নতি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

তবে শর্ত থাকে যে, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের আগে এরূপ উচ্চতর গ্রেড প্রদেয় হবে না।

পেনশনের ক্ষেত্রে সরকারি চাকুরে ১২ (বারো) মাস পূর্ণ গড় বেতনে অবসর-উত্তর ছুটি ভোগের সুবিধা পাবেন; এবং ১৮ (আঠারো) মাস ছুটি নগদায়নের সুবিধা ভোগ করিবেন।

বাড়ি ভাড়া : সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গ্রেড ভেদে রাজধানীসহ বিভাগীয় শহর, বাণিজ্যিক নগরী ও সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকার গুরুত্ব অনুযায়ী মূল বেতনের ২৫ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া পাবেন। তবে, যেসব কর্মচারী সরকারি বাসস্থানে বসবাস করছেন, তারা বাড়ি ভাড়া প্রাপ্য হবেন না। সরকারি চাকুরে বিধিবিধান অনুযায়ী ভাড়াবিহীন বাসস্থানে থাকবার অধিকারী হলে তাদের সরকারের দেওয়া বাসস্থানের জন্য কোনো বাড়ি ভাড়া দিতে হবে না এবং তারা বাড়ি ভাড়া ভাতাও প্রাপ্য হবেন না।

স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই কোনো সরকারি বা স্বশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বীমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী হলে তারা যদি একত্রে সরকারি বাসস্থানে বসবাস করেন তাহলে যার নামে বাসস্থান বরাদ্দ তার বেতন বিল থেকে বাড়ি ভাড়া নির্ধারিত হারে কর্তন করবে সরকার। তবে, অপরজন প্রচলিত বিধি মোতাবেক বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রাপ্য হবেন।

আয়কর : আয়করের আওতাভুক্ত সব কর্মচারী বাধ্যতামূলকভাবে আয়কর আইন, ২০২৩ এর বিধান মোতাবেক নিজের বেতন খাতের আয়সহ মোট আয় নিরূপণ ও নিজস্ব আয় থেকে আয়কর পরিশোধপূর্বক যথাসময়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন।

কী কী ভাতা দেওয়া হবে।

নববর্ষ ভাতা : সরকারি চাকুরে বাংলা নববর্ষে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে নববর্ষ ভাতা পাবেন। পেনশনগ্রহণকারী অবসরভোগীরা ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরাও (মূল পেনশনভোগীর প্রাপ্ত নিট পেনশনকে ভিত্তি ধরে) এই ভাতা প্রাপ্য হবেন।

যাতায়াত ভাতা : জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬-এর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীর ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মস্থল হলে তিনি মাসিক ৬০০ (ছয়শ) টাকা হারে যাতায়াত ভাতা প্রাপ্য হবেন। প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য গাড়ি ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্র্তৃক প্রণীত নীতিমালা, সর্বশেষ সংশোধনীসহ, প্রযোজ্য হবে।

মোবাইল ভাতা : ৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারীরা মাসিক ৫০০ (পাঁচশ) টাকা এবং ৬ষ্ঠ   থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসিক ১৫০ (একশ পঞ্চাশ) টাকা মোবাইল ভাতা প্রাপ্য হবেন।

ধোলাই ভাতা : যেসব কর্মচারীর ক্ষেত্রে ধোলাই ভাতা প্রযোজ্য, তারা মাসিক ৩০০ (তিনশ) টাকা ধোলাই ভাতা প্রাপ্য হবেন।

আপ্যায়ন ভাতা : মন্ত্রিপরিষদ সচিব/প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ২০০০ (দুই হাজার) টাকা; সিনিয়র সচিব/সচিব ১০০০ (এক হাজার) টাকা; অতিরিক্ত সচিব ৯০০ (নয়শ) টাকা এবং যুগ্মসচিব/অন্যান্য প্রাধিকারভুক্ত কর্মচারীরা ৬০০ (ছয়শ) টাকা মাসিক আপ্যায়ন ভাতা প্রাপ্য হবেন।

পাহাড়ি ভাতা : পার্বত্য জেলাসমূহের জেলা সদর ও সদর উপজেলায় নিযুক্ত সব কর্মচারী মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা এবং অন্যান্য উপজেলার জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫৫০০ (পাঁচ হাজার পাঁচশ) টাকা মাসিক পাহাড়ি ভাতা প্রাপ্য হবেন।

হাওর/দ্বীপ/চর ভাতা : হাওর/দ্বীপ/চর এলাকায় নিযুক্ত সব কর্মচারী মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে, সর্বোচ্চ ৫০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা পর্যন্ত হাওর/দ্বীপ/চর ভাতা প্রাপ্য হবেন।

প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা : প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে শুধু প্রশিক্ষণ কাজে প্রেষণে কর্মরত ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মচারীরা মূল বেতনের ১০ শতাংশ হারে মাসিক প্রেষণ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) সন্তান ভাতা : প্রতিবন্ধী হিসেবে নিবন্ধিত সন্তানের জন্য জনপ্রতি মাসিক ৩০০০ (তিন হাজার) টাকা হারে অনধিক ২ সন্তানের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) সন্তান ভাতা প্রদেয় হবে, এবং এই ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধিতা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ভাতা গ্রহণ না করার শর্ত প্রযোজ্য হবে।

শিক্ষা সহায়তা ভাতা : প্রতি সন্তানের জন্য ৫০০ টাকা হারে সর্বোচ্চ ২ সন্তানের জন্য ১ হাজার টাকা শিক্ষা সহায়তা ভাতা পাবেন সরকারি চাকুরেরা।

উৎসব, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা : নিয়মানুযায়ী বছরে অনধিক ২টি উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতাও দেওয়া হবে।

ঝুঁকি ভাতা ও অন্যান্য ভাতা : স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-তে কর্মরত কর্মচারী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরত সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট/কোম্পানি কমান্ডার/ব্যাটালিয়ন কোয়ার্টার মাস্টার ও তদনিম্ন পর্যায়ের কর্মচারী, কারাগারে কর্মরত ডেপুটি জেলার ও তদনিম্ন পর্যায়ের কর্মচারী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডে কর্মরত এমসিপিও ও তদনিম্ন পর্যায়ের কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের অপারেশনাল কাজে নিয়োজিত উপসহকারী পরিচালক (গ্রেড ১০) থেকে ফায়ারম্যান/নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট (গ্রেড ১৮) ও সমপর্যায়ের কর্মচারী, দুর্নীতি দমন কমিশনের গ্রেড-১০ ও তদনিম্ন পর্যায়ের কর্মচারী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন সারা দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ২৭৫ উপজেলায় কর্মরত এলসিএ/টিবিএলসি (গ্রেড ১৬) ও ৩১টি জেলার সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত প্রোগ্রাম অর্গানাইজার (গ্রেড ১৪) এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর এফএফএ অ্যান্ড এমআইএস উইংয়ের প্রকাশনা শাখায় মুদ্রণ ও বাঁধাই সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ১৩তম থেকে ১৭তম গ্রেডভুক্ত ২৪ ক্যাটাগরির কর্মচারীরা ঝুঁকি ভাতা যথারীতি পাবেন।

প্রেষণে নিয়োজিত কর্মচারীরা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর জন্য নির্ধারিত ঝুঁকি ভাতা বা বিশেষ ভাতা কিংবা প্রতিরক্ষা সার্ভিস ভাতা (কেবল প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) প্রাপ্য হবেন না।

এনএসআই, ডিজিএফআই, এসএসএফ, পিজিআর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগের কর্মচারীরা আগের পরিমাণের ওপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ হারে বিশেষ ভাতা/ বিশেষ গার্ড ভাতা/ ক্ষতিপূরণ ভাতা/ ঝুঁকি ভাতা প্রাপ্য হবেন।