ইরানে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ৫ বছর বাড়ালেন ট্রাম্প

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৬ এএম

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে ইরানের জ¦ালানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ব্যবস্থা নিতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার ট্রাম্প ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের ‘এইচআর ৫৩৩৪’ বিলে স্বাক্ষর করেন। এতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক ও বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থার সময়সীমা বৃদ্ধি করার সুযোগের পাশাপাশি ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

তবে এ আইনে ইরানের ওপর নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। ইরানের জ্বালানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের যেসব ধরনের ওপর আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা ছিল, নতুন আইনটিও সেসব ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে। এর মধ্যে দেশটির পেট্রোলিয়াম কেনা, পরিবহন, অর্থায়ন, বীমার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসা ও পেট্রোলিয়াম প্রকল্পে বিনিয়োগকারীরা রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ, দেশটির আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের সুযোগ ও ডলারে লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে। ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলোর মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা ছিল।

ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশেরও বেশি চীনে যায়। ইরানের তেল বিক্রি ও পরিবহনে ভূমিকার অভিযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং ও ভারতের তেল ব্যবসায়ী, জাহাজ কোম্পানি ও ট্যাংকার পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধেও আগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কে থাকা বিদেশি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও আগামী পাঁচ বছরের জন্য বহাল থাকবে। আইনটির নামকরণ করা হয়েছে গত জুলাইয়ে মারা যাওয়া রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের শুরু করা ইরান যুদ্ধ এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের জোরালো সমর্থক ও প্রচারক ছিলেন। এ আইন পাসের জন্যও কাজ করেন তিনি।

এদিকে, নতুন এই আইনটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তাপ দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটনের এই অতিমাত্রায় কঠোর পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নীতিমালা পরিপন্থী দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন একতরফা আচরণকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান সরকার। দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি ধসে পড়েছে। দেশটিতে মূল্যস্ফীতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ও খাদ্য পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত