রাজধানীর সূত্রাপুরে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে দেওয়া আগুনে এক নারীসহ ৫ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সূত্রাপুর শ্যামবাজার চামাকটুলী এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেনÑ সিদ্দিক বেপারী (৬০), তার ছেলে মো. ইমন (২৬), ভাতিজা রাজিব (৩৮), ভাগিনা আরিফুর রহমান ধলু (৩৫) ও ভাগ্নি তানিয়া আক্তর (২০)।
দগ্ধ আরিফুর রহমার ধলুর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার জানান, শ্যামবাজার চামাকটুলীতে তাদের (দগ্ধদের) পৈতৃক সম্পত্তি। দগ্ধরা সবাই পাশাপাশি বাসায় থাকেন। ইমন সৌদি আরব প্রবাসী। রাজিব ন্যাশনাল হাসপাতালে মেকানিকের কাজ করেন। ধলু ইলেকট্রিক মিস্ত্রি আর তানিয়া পুরান ঢাকার উইমেন্স কলেজে অনার্সের শিক্ষার্থী। শুক্রবার বাসার সামনে ময়লা পানি জমিয়ে রাখা দেখে ইমনের বোন সুলতানাকে পানি পরিষ্কার করতে বলেন তানিয়া। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে সুলতানা সৌদি প্রবাসী ভাই ইমনকে বিষয়টি জানান। এটা জেনে ইমন শুক্রবার দেশে চলে আসেন। শনিবার বিকেলে ইমন সবাইকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমিও মরব, তোদেরও মারব।’ এই বলে নিজের গায়ে পেট্রোল ঢালে এবং বাকিদের শরীরে পেট্রোল ছিটিয়ে দেন। এরপর দিয়াশলাই দিয়ে নিজের ও অন্যদের আগুন ধরিয়ে দেন। এতে মুহূর্তেই সবার শরীরে আগুন ধরে যায়। ঘটনার পরপরই তাদের বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ জানান, সূত্রাপুর থেকে ৫ জন দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। এদের মধ্যে সিদ্দিকের ৩৫ শতাংশ, ইমনের ৯০ শতাংশ, রাজিবের ১৫ শতাংশ, আরিফের ৮ শতাংশ ও তানিয়ার ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। সবার অবস্থায়ই আশঙ্কাজনক। তাদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।