রাজধানীর তুরাগ থানার ধউর এলাকার বাসিন্দা পোশাক কারখানার কর্মকর্তা মীর জালাল আহমেদ এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ঘাতক বাসের স্বত্বাধিকারী এনা পরিবহন কর্তৃপক্ষও পরিবারটির কোনো খোঁজখবর নেয়নি।
মীর জালাল আহমেদ ধউর এলাকার বাসিন্দা। তিনি টঙ্গী পশ্চিম থানার খান মোহাম্মদ রোডস্থ একে সোয়েটার কারখানায় জিএম পদে কর্মরত ছিলেন।
জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ধউর বেড়িবাঁধ এলাকায় বাসের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন মীর জালাল আহমেদ। এ সময় এনা পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-০৩১০) তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ ইস্ট-ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে তুরাগ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
ঘটনার দিনই নিহতের ছেলে আনিসুর রহমান তুরাগ থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ ঘাতক বাসটি জব্দ করে থানায় নিয়ে এলেও চালককে এখনো শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এদিকে ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও এনা পরিবহন কর্তৃপক্ষ কিংবা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা। নিহতের ছেলে আনিসুর রহমান সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার বিবরণ ও ঘাতক বাসের ভিডিও প্রকাশ করে বাবার মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ এবং পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে অবিলম্বে পলাতক বাসচালককে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।