খুবির চার শিক্ষার্থীকে আসামি করে মামলা

ছাত্রাবাসে ভাত চুরি করে খাওয়ার অপবাদে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) খাজা হলের বিপরীতে ইসলামনগর সড়কের একটি চারতলা মেসে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে (২৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গত শনিবার রাতে নিহতের বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় মামলাটি করেন। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, নিহত আজমুলের বাবা কুতুবউদ্দিন গত শনিবার রাতে মামলা করেছেন। এসআই মো. আজমুল হককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু হয়েছে। আজমুলকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে নাকি নির্যাতনের পর ছাদ থেকে ফেলে মেরে ফেলা হয়েছে, নাকি সে নিজেই ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পড়ে মারা গেছে এই ৩টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, খুবির খানজাহান আলী হলের (খাজা হল) বিপরীত পাশে ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেসে চুরির অভিযোগ তুলে আজমুলকে চারতলার ছাদে নিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে আজমুল মেসে মিল না দিয়ে অন্যের খাবার খেয়ে ফেলেন। এই ঘটনায় চুরির অভিযোগ তুলে মেসে তার সঙ্গে থাকা শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় কয়েকজন ছাদে নিয়ে তাকে মারধর করেন। তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। পরে ভবনের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক আজমুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেলে নিয়ে যান।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, খুবির কয়েকজন ছাত্র রাত দেড়টার দিকে আজমুল নামের একজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। সে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েছে বলে তারা জানায়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছু সময় পর তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর পেয়ে তার সঙ্গে থাকা শিক্ষার্থীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের আশঙ্কার কথা জানানো হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

নিহত আজমুল হোসেন নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার শলুয়া গ্রামে। আজমুলের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে তার পরিবারের কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরিবার টাকা দিতে রাজি হয়েছিল। পরে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে এসে স্বজনরা আজমুলের লাশ দেখতে পান।