উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৩ শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসানে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনটি শর্ত পাঠিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন। গত শনিবার দেওয়া ওই বিশেষ সাক্ষাৎকারে মোহসেন রেজায়ি বলেন, ‘মধ্যস্থতাকারী কাতারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে তারা আমাদের শর্তগুলো ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। আমরা এখন প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড) ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় আছি।’ সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, ‘আমাদের শর্তের মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে (লেবানন, ইরান এবং ফিলিস্তিন) যুদ্ধ বন্ধ করা, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার।’

রেজায়ি জানান, সমঝোতা স্মারক থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর ওয়াশিংটনের প্রতি নিজেদের কৌশল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ইরান নিশ্চিত হয়। তিনি আরও বলেন, ইরান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মূল্যায়ন ও হিসাব-নিকাশ ত্রুটিপূর্ণ ছিল আর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধের পেছনে উসকানি দিয়েছে। ট্রাম্পের হুমকিতে কোনো কাজ হবে না দাবি করে এসব শর্ত মেনে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই জরুরি বলে মত দিয়েছেন রেজায়ি। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র আবারও নতুন করে হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেননি রেজায়ি। সামরিক মূল্যায়নের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, এই হামলার বেশ জোরালো আশঙ্কা রয়েছে; তবে তেহরানও পুরোপুরি প্রস্তুত।

আগের দুই দফা সংঘাতের পর ইরান তাদের সামরিক পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে বলেও জানান রেজায়ি। তিনি বলেন, এবার তাদের মূল নজর থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ওপর। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দুর্বলতা জানে আর তাদের বিমান হামলা মোকাবিলার জন্য আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রস্তুত বলে দাবি করেন দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। পারস্য উপসাগর থেকে শুরু করে ওমান উপসাগর ও আরব সাগর পর্যন্ত তাদের নিশানা থাকবে বলে জানান রেজায়ি। তবে এর বাইরে ভারত মহাসাগরের দিকের লক্ষ্যবস্তুগুলো ইরানের আওতার বাইরে পড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সম্প্রতি ইরান ওয়াশিংটনের একটি বিমানবাহী রণতরীর কাছে জাহাজা বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে বলেও দাবি করেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি।

গত মাসে দুই পক্ষের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ শেষ হয়। এরপর থেকেই দুই দেশকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরাতে কাজ করছে কাতার ও পাকিস্তান। এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোও যুদ্ধের অবসান চায়। দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নিতে গতকাল রবিবার তেহরানে যাওয়ার কথা ছিল পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে ইরানের যেকোনো পাল্টা হামলার তীব্রতা হবে অনেক বেশি। আগের মতো এই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি বাণিজ্যিক স্বার্থ ও তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও আঘাত হানা হবে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বাস্তব অর্থে যুদ্ধ এখনো চলছে। তবে যত দ্রুত সম্ভব এই সংঘাত অবসানে তেহরান একটি নতুন কৌশলে কাজ করছে বলেও জোর দেন তিনি।